দুই দফা অস্ত্রোপচারের ধকল আর পোড়া শরীর নিয়ে এখন যন্ত্রণায় ছটফট করছে আড়াই মাস বয়সী শিশুটি। বর্তমানে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই তাকে বাড়িতে রেখে দিয়েছেন মা-বাবা। এখন কী করবেন তাঁরা ভেবে পাচ্ছেন না।
শিশুটির বাবা মিজানুর রহমান রাজশাহী নগরের নওদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১৯ মে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এটি তাঁর তৃতীয় সন্তান। নাম রাখেন মুসরাত জাহান। জন্মের পর দেখা যায়, নবজাতকের পায়ুপথ নেই। তখন দায়িত্বরত চিকিৎসক মোজাম্মেল হক দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরদিন সন্ধ্যায় তাঁর নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার করে পেট দিয়ে পায়ুপথ বের করে দেওয়া হয়। ছয় মাস পর ফের অস্ত্রোপচার করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথা বলেন চিকিৎসকেরা।
কিন্তু কিছুদিন পরই শিশুটির পেট দিয়ে বৃহদন্ত্র বের হয়ে আসে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মোজাম্মেল হক বলেন, সেলাইয়ের দুর্বলতার কারণে নাড়ি বের হয়ে এসেছে। আবার অস্ত্রোপচার করাতে হবে। সেই অনুযায়ী ১১ জুলাই ফের শল্য-ছুরির নিচে নেওয়া হয় ছোট্ট দেহখানি।
মিজানুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসক কক্ষের বাইরে এসে বলেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে অস্ত্রোপচারের কারণে ঠান্ডায় চেতনা ফেরানো যাচ্ছিল না। তাই গরম সেঁক দিতে গিয়ে বাচ্চার হাতের কাছে একটু পুড়ে গেছে। তাঁরা একটা মলম দিচ্ছেন। কিছুদিন ব্যবহার করলেই ঠিক হয়ে যাবে। পরে তাঁরা গিয়ে দেখেন, বাচ্চার নিতম্বসহ শরীরের চার-পাঁচ জায়গায় পুড়ে দগদগে ঘা হয়ে গেছে। এখন সারাক্ষণ ওই ঘায়ের যন্ত্রণায় ছটফট করছে তাঁর কচি সন্তান।
মিজানুর রহমান বলেন, যে কারণে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তার কোনো পরিবর্তন নেই। নাড়ি আবার বের হয়ে গেছে। এরপর তাঁরা হাসপাতাল পরিবর্তন করে ঈদের আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাচ্চাকে ভর্তি করান। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান নওশাদ আলী তাকে দেখে বলেছেন, এই মুহূর্তে বাচ্চাটির অস্ত্রোপচার করা যাবে না। আরও সময় দিতে হবে। তা ছাড়া বাচ্চার সুস্থ হওয়ার ব্যাপারেও তিনি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।
মিজানুর রহমান বলেন, এরপর তাঁরা বাচ্চাকে ২৭ জুলাই হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে এসেছেন। এখন কী করবেন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। বাচ্চাটি যন্ত্রণায় সারাক্ষণ ছটফট করে। অস্ত্রোপচারের পর থেকে তাঁদের ঘুম নেই।
জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোজাম্মেল হক বলেন, অস্ত্রোপচারের পর বাচ্চার জ্ঞান ফিরছিল না। গরম কাপড় দিয়ে সেঁক দিতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত অনেকটা জায়গা পুড়ে গেছে।

0 Comment to "যন্ত্রণায় ছটফট করছে শিশুটি"
Post a Comment