Showing posts with label আজকের প্রত্রিকা. Show all posts
Showing posts with label আজকের প্রত্রিকা. Show all posts

Saturday, 8 August 2015

নাস্তিকদের বিতাড়ন, ব্লগ বন্ধ চায় ওলামা লীগ

নাস্তিক-মুরতাদদের বিতাড়ন, ইসলামের বিরোধিতাকারীদের ফাঁসি এবং নাস্তিক ব্লগারদের ব্যবহৃত সব ব্লগ ও ওয়েবসাইট অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী ওলামা লীগসহ ১৩টি ইসলামপন্থী সংগঠন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া এসব সংগঠন মোট ১৭ দফা দাবি আদায়ে আজ শনিবার সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনের ভিডিওতে দেখা যায়, এক বক্তা বলছেন, ‘নাস্তিক-মুরতাদদের জায়গা দেওয়া হবে না।’
আরেক বক্তা বলেন, ইসলাম-বিরুদ্ধ কার্টুন প্রদর্শনী, ছবি ছাপানো এবং মিথ্যা ও অবমাননাকর তথ্য পরিবেশনকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা পরিষদ, কেন্দ্রীয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, হাক্কানী আলেম সমাজ, জাতীয় ওলামা পরিষদ, বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, ইমাম-মোয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুন্নি ছাত্র ঐক্য, আমরা ঢাকাবাসী এবং বঙ্গবন্ধু ওলামা পরিষদ ওই মানববন্ধনের আয়োজন করেছিল।
মানববন্ধনের পর মাওলানা মো. আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাস্তিক ব্লগারদের বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; সব ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ করতে হবে; প্রশাসনে হিন্দুতোষণ বন্ধ করতে হবে এবং সব রাজাকারের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
- See more at: http://bangla.uttaranews24.com/2015/08/08/76996#sthash.cQvqeYre.dpuf

Friday, 7 August 2015

শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা সাড়ে তিন বছরে ৯৬৮ শিশুহত্যা

সাড়ে তিন বছরে দেশে ৯৬৮টি শিশুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৪ সালে শিশুহত্যার হার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬১ শতাংশ বেশি ছিল। এ বছর হত্যার পাশাপাশি নৃশংসতাও বেড়েছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শিশু অধিকার নিয়ে কর্মরত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু ধর্ষণসহ অন্যান্য নির্যাতনের পাশাপাশি বর্তমানে শিশুহত্যার সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে নারী, শিশু-সংক্রান্ত মামলাসহ প্রায় ৩০ লাখÿ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ সংখ্যাটিও প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।
বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ২৬৭টি সংগঠনের মোর্চা শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১২ সালে ২০৯, ২০১৩ সালে ২১৮, ২০১৪ সালে ৩৫০ জন শিশুকে হত্যা করা হয়। চলতি বছরের সাত মাসেই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে।
বর্তমানে শিশুহত্যার প্রক্রিয়া বীভৎস থেকে বীভৎসতর হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ শহিদ মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার শিকার হচ্ছে মূলত দরিদ্র পরিবারের শিশুরা। নির্যাতনকারীরা হচ্ছে প্রভাবশালী। ঘটনা ঘটছে, মামলা হচ্ছে কিন্তু বিচার যে শেষ হচ্ছে, তার কোনো নজির দেখা যাচ্ছে না। ঘটনা ঘটার পর সরকারের পক্ষ থেকে হচ্ছে, দেখছি বা তদন্তাধীন আছে বললে হবে না।
জানতে চাইলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ প্রথম আলোকে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বাইরে হয়তো আরও ঘটনা ঘটছে, যেগুলো জানা যাচ্ছে না। ঘটনাগুলো সবার সামনে তুলে ধরার জন্য প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ দেন।
যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা মানুষের কাতারে পড়ে না বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সমাজে এদের সংখ্যা কম। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
বীভৎসতার মাত্রা: সিলেটে নির্যাতন করে হত্যা করা শিশু শেখ মো. সামিউল আলম ওরফে রাজনের (১৪) শরীরে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সবজি বিক্রেতা এই কিশোরকে চোর অভিযোগে গত মাসে পেটানোর সময় ভিডিওচিত্র ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই। নির্যাতনের একপর্যায়ে মৃত্যু হয় সামিউলের। এ ঘটনার পর এক মাসের ব্যবধানে ঘটে গেছে আরও একাধিক নৃশংস এমন হত্যা।
গত মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে সুটকেসের ভেতর থাকা একটি ছেলেশিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বুকে ও কপালে ছ্যাঁকার দাগ ছিল। পিঠে ছিল পাঁচ ইঞ্চির মতো গভীর জখম। থুতনিতেও জখমের চিহ্ন ছিল। শিশুটির বয়স আনুমানিক নয় বছর। গতকাল পর্যন্ত শিশুর লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গেই পড়ে ছিল।
খুলনায় নির্যাতনের শিকার হওয়া ১২ বছর বয়সী রাকিব গ্যারেজ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। এ কারণে আগের গ্যারেজ মালিক ও তার সহযোগী রাকিবকে ধরে মোটরসাইকেলের চাকায় হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেসর মেশিনের নল ঢুকিয়ে দেয় তার মলদ্বার দিয়ে। এরপর চালু করে দেওয়া হয় কমপ্রেসর। নল দিয়ে পেটে বাতাস ঢুকে শিশুটির দেহ ফুলে প্রায় বড়দের মতো হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায় নাড়িভুঁড়ি, ফেটে যায় ফুসফুসও। মৃত্যু হয় রাকিবের।
বরগুনায় রবিউল আউয়াল নামে ১১ বছরের এক শিশুকে চোখে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। মাছ চুরির ‘অপবাদে’ স্থানীয় এক ব্যক্তি এই বীভৎস কায়দায় তাকে হত্যা করেছে বলে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।
আর মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মা ও তাঁর পেটের শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তো দেশজুড়েই আলোচিত।
শিশু নির্যাতন ও হত্যার কটি মামলা আছে, কটি তদন্তাধীন প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের তথ্য চাওয়া হলে পুলিশ সদর দপ্তর কম সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করতে পারেনি।
তবে চলতি সপ্তাহে আইন কমিশনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী ও শিশু-সংক্রান্ত মামলাসহ প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।
এ বিষয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিচার-প্রক্রিয়ার শ্লথ গতিতে অপরাধীরা অপরাধ করা থেকে নিরুৎসাহিত তো হয়ই না, বরং উৎসাহিত হয়। একজনের বেলায় মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করা হলেও অন্য ১০০ জন লোক তা দেখে ভয় পায়। অপরাধীরা ভেবেই নিচ্ছে—অন্যায় করলে বিচার আর কী? আর বর্তমানে যে ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে তা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।’
জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শিশু নির্যাতনকারীরা সমাজের আর দশটা অপরাধীর মতো নয়। কোনো সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে না। অন্য চিহ্নিত অপরাধীদের যেভাবে নিরীক্ষণ করা হয়, এসব ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটার আগ পর্যন্ত পুলিশ তাদের নিরীক্ষণ করতে পারছে না। অপরাধ ঘটার সময় কেউ খবর দিলে পুলিশ শিশুকে রক্ষা করাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
শিশুদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মধ্যে হত্যার পরেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ৬৩ জন শিশু যৌন হয়রানি এবং ৩২২ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর সমন্বিত সেবাকেন্দ্র) সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম বলেন, ‘এক বছর বয়সী শিশুকে পর্যন্ত ধর্ষণ করা হয়। আমাদের কাছে যখন ওই শিশুকে আনা হয় তখন তার প্রজনন অঙ্গ একেবারে ছিঁড়ে গেছে। এক, দুই বছর বয়সী কম থাকলেও তিন, চার বা পাঁচ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।’
সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচারহীনতা এবং ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শক্তি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্বৃত্তপরায়ণ ও পশু প্রবৃত্তির লোকের প্রাধান্য থাকায় এ ধরনের অমানবিক ঘটনাগুলো ঘটছে। বড়দের পাশাপাশি শিশুদের মনেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই গণমাধ্যমকে সচেতনভাবে শিশু নির্যাতনসহ নৃশংস ঘটনাগুলো তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
শিশুহত্যা
২০১২ সালে ২০৯
২০১৩ সালে ২১৮
২০১৪ সালে ৩৫০
২০১৫ সালে ১৯১
(জুলাই পর্যন্ত)

রাবিতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার



রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে মতিহার থানা পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমপাড়া শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা প-৭৬ নং বাসার পিছন থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে প-৭৬ নং শিক্ষকের বাসার কাজের বুয়া জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালে এক ব্যক্তিকে সেখানে পরে থাকতে দেখেন এবং তিনি ঐ বাসার শিক্ষককে বিষয়টি জানান। এরপর ঐ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এসময় মৃত্যু ব্যক্তির হাতে একটি তার কাটার যন্ত্র ও একটি বৈদ্যুতিক তার পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর তরিকুল হাসান জানান, আমি খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে যাই। সম্ভবত বিদ্যুৎ এর তার চুরি করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা লাশটির দায়িত্ব মতিহার থানা পুলিশের হাতে দিয়ে দিয়েছি। তারাই এই বিষয়টি সমাধান করবেন।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন তালুকদার জানান, ময়না তদন্তের জন্য লাশটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও মৃত্যু ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। পরিচয় পাওয়া গেলে মৃত্যু ব্যক্তির লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

শ্রীনগরে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে বাস খাদে, ১ লাশ উদ্ধার



ঢাকা-মাওয়া সড়কে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস খাদে পড়েছে। আজ শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। (বিস্তারিত আসছে…)

রাজধানীতে দিনদুপুরে ব্লগার নিলয়কে গলা কেটে হত্যা



 রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকার একটি বাসায় নিলয় নীল (৪০) নামের এক ব্লগারকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ছিলেন এবং অনলাইনে লেখালেখি করতেন বলে জানা গেছে। নিহত নিলয় চৌধুরী (৪০) স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন।

খিলগাঁও থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে উত্তর গোড়ানের একটি পাঁচতলা ভবনের এক বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, নিলয় আমাদের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। নিয়মিত ব্লগেও লিখতেন। জুমার নামাজের পর বাসা দেখার নাম করে কয়েকজন ঢুকে তাকে খুন করে বলে জানান ইমরান।  
নিলয় নীল একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) গবেষণা বিভাগে চাকরি করতেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম।

সৌদিতে বিশ্বের বৃহত্তম খেঁজুর উৎসব শুরু


সৌদি আরবের আল-কাসিম প্রদেশের প্রধান শহর বোরাইদায় বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম খেঁজুর উৎসব। চলবে আগামী ৪০ দিন। সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকা থেকে খেজুর চাষী ও ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ খামারে উৎপাদিত সবচেয়ে ভাল মানের খেঁজুর নিয়ে এ উৎসবে যোগদান করছেন।
প্রতি বছরই এই বৃহৎ খেঁজুর উৎসবের আয়োজন করা হয় বলে জানান আল কাসিম পৌরসভার প্রধান ও খেজুর উৎসবের সমন্বয়কারী সালেহ আল আহমদ। তিনি আরও বলেন, এই উৎসব মূলত কাসিম প্রদেশের অর্থনৈতিক প্রসারে বিরাট ভূমিকা রাখবে। এছাড়া প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী সৌদি আরবসহ আরব গালফের অন্যান্য দেশ থেকে এখানে আসছেন এবং তাদের পছন্দের খেঁজুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের প্রধান শেয়ারজাবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন আবদুল মতিন পাটওয়ারী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএসইর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবদুল মতিন পাটওয়ারী ১৯৯২ সালের জুন মাসে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের (ডেসা) সহকারী পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্যাডার) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
ডিএসইতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জার্মানি ভিত্তিক বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানি বিএএফএফ বাংলাদেশ লিমিটেডের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
- See more at: http://bangla.uttaranews24.com/2015/08/06/76508#sthash.BtZFV2Rk.dpuf
দেশের প্রধান শেয়ারজাবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন আবদুল মতিন পাটওয়ারী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএসইর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবদুল মতিন পাটওয়ারী ১৯৯২ সালের জুন মাসে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের (ডেসা) সহকারী পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্যাডার) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
ডিএসইতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জার্মানি ভিত্তিক বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানি বিএএফএফ বাংলাদেশ লিমিটেডের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
- See more at: http://bangla.uttaranews24.com/2015/08/06/76508#sthash.BtZFV2Rk.dpuf

প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদলের পাঁচ নেতা-কর্মী আটক


রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আজ শুক্রবার সকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাঁচজন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
সকালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ঢাকা ছাত্রদল। এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার সময় সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রেসক্লাবের ফটকের সামনে থেকে এঁদের আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে।
শাহবাগ থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা মো. সুজন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও আটক হওয়া পাঁচজনের নাম জানা যায়নি।

বাসচালককে কুপিয়ে জখম, চলাচল বন্ধ


নরসিংদীতে মোস্তফা মিয়া (৪২) নামের এক বাসচালককে কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা।
মোস্তফা নরসিংদী বাস চালক সমিতির প্রচার সম্পাদক ও মেঘালয় ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের চালক।
পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে কয়েকজন বাস মালিকের সঙ্গে চালকদের একটি বৈঠক ছিল। বৈঠক শেষ করে বের হওয়ার পর স্থানীয় চৈতালপাড়া এলাকার জুয়েল মিয়া নামের এক সন্ত্রাসী এসে মোস্তফা মিয়াকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে শুরু করেন। জুয়েলের সহকর্মী ও আশপাশের লোকজন জুয়েলকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রতিবাদে শ্রমিকেরা নরসিংদী থেকে ঢাকাগামী মেঘালয় পরিবহন, পিপিএল পরিবহন, আন্তজেলা বাস রংধনু পরিবহনসহ সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন (বিআরটিসি বাদে)।
রংধনু পরিবহনের বাস চালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা এসে আমাদের কুপিয়ে চলে যাবে। সেটা হবে না। আমরা এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাস চালাব না। আগে সন্ত্রাসী জুয়েলের বিচার করতে হবে।’
নরসিংদী সদর মডেল থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বাস চলাচল বন্ধের সংবাদ পাইনি। শ্রমিকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এর মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলেও জানতে পেরেছি।

পুতুল বুড়ির পুতুল বাড়ি


 
 শিশুর হাতে পুতুল শিশু, খেলনা না খেলার সাথি! শৈশবে খেলার সাথি খুঁজে পাওয়ার আগেই হয়তোপুতুলের সঙ্গে ভাব হয়। বেড়ে ওঠাও যেন পুতুল সঙ্গে নিয়েই। পুতুল সাজানো, পুতুলের ঘর বানানো, পুতুলের জন্য কত্ত কিছু! পুতুল খেলার দিনগুলো একসময় হারিয়ে যায়। কিন্তু কেউ কেউ কখনোই সেই দিনগুলো ভুলতে পারেন না। আবার কেউ অনেক বড় হয়েও পুতুলের জন্য ভালোবাসা জমিয়ে রাখেন।
নিজেই পুতুল সাজান, পুতুলকে জামা কাপড় পরিয়ে দেন আদিলা। আদিলা রোজেস হয়তো আরও অনন্য ব্যতিক্রম। কোস্টারিকার এই নারীর বয়স এখন ৭০। কিন্তু তাঁর পুতুল খেলার দিন যেন এখনো পেরোয়নি। ৫০ পেরোনোর পর যেন নতুন করে পুতুল খেলার দিনে ফিরে গেছেন আদিলা। ছোট্টবেলায় ইচ্ছে হলেই ইচ্ছেমতো পুতুল পাওয়া যেত না। কিন্তু বড় হয়ে পুতুল খেলার মজা তো এখানেই। চাইলেই নিজের মতো করে পুতুল কেনা যায়। পুতুল বানিয়ে নেওয়া যায়। বকা দেওয়ার কেউ নেই, বাধা দেওয়ার কেউ নেই।
যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই শুধু পুতুল আর পুতুল এই পুতুল বুড়ির পুতুল বাড়িতে।গত ২০ বছর ধরে পুতুল জমাচ্ছেন আদিলা। একটার পর একটা পুতুল আনতে আনতে এখন আদিলার ছোট্ট বাড়িটাই হয়ে উঠেছে পুতুল বাড়ি। আলমারি, শোকেস, টেবিল, আলনা তো বটেই ঘরের দেয়াল, কার্নিশ এমনকি সিলিং জুড়েও খালি পুতুল আর পুতুল। পুতুল দিয়েই সাজানো, পুতুল দিয়েই গোছানো সবকিছু। আদিলার এই পুতুল বাড়িতে এখন ৪ হাজার ৫০০ পুতুল আছে!
এমনকি আদিলা রোজেসের টয়লেটেও সাজানো হরেক রকমের পুতুল।নানা রঙের নানা ঢঙের পুতুল আছে আদিলার। হরেক রকম পুতুল জমানোর নেশায় তিনি ডুবে আছেন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। শত শত পুতুলের মধ্য থেকে কি আলাদাভাবে সব পুতুলকে চেনেন তিনি! জানেন কে কোথায় আছে! হয়তো চেনেন, হয়তো জানেন। কারণ এখনো নিজেই পুতুল সাজান তিনি। পুতুলের চুল আঁচড়ে দেন, পুতুলের জামা পাল্টে দেন, পুতুলকে জুতো পরিয়ে দেন। আর এভাবেই এই পুতুল বাড়িতে দিন কেটে যায় আদিলা রোজেস নামের এই পুতুল বুড়ির।এই পুতুল রাজত্বে রান্নাঘরে যাওয়ার প্যাসেজটাই বা কেন পুতুল ছাড়া থাকবে! এই পুতুল রাজত্বে রান্নাঘরে যাওয়ার প্যাসেজটাই বা কেন পুতুল ছাড়া থাকবে!

Thursday, 6 August 2015

বজরঙ্গি ভাইজানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি

বজরঙ্গি ভাইজানের
গোটা দক্ষিণ এশিয়া এখন বজরঙ্গি ভাইজান-জ্বরে কাঁপছে। এমনকি পাকিস্তানের সিনেমা হলেও নাকি এ ছবি দেখতে ভিড় করছে অসংখ্য মানুষ। আবার একই সময়ে টুইটারে একটি বিশেষ হ্যাশট্যাগ দিয়ে এ ছবির নিন্দাও করছে অনেক পাকিস্তানি। হ্যাশট্যাগটি হলো #BollywoodPoisoningPak, যাকে বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘বলিউড পাকিস্তানকে বিষাক্ত করে ফেলছে!’ পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে নিটোল ভালোবাসার একটা ছবি কীভাবে পাকিস্তানকে বিষাক্ত করে ফেলছে, সে বিষয়ে অবশ্য বিশদ কোনো ব্যাখ্যা ওসব টুইটারে নেই। তবে সমাজের ওপর চলচ্চিত্রের যে বেশ অনেকটা প্রভাব আছে বা থাকতে পারে, এ কথা আজকাল অনেকেই মানেন।সেটা না হয় মানা গেল, কিন্তু চলচ্চিত্রের ওপর ভর করে সমাজ বিশ্লেষণ করতে যাওয়া কতখানি যুক্তিযুক্ত? চলচ্চিত্র, বিশেষ করে জনপ্রিয় ধারার চলচ্চিত্র কি সমাজের দর্পণ? এটা নিয়ে নানা রকম মতামত আছে। সেগুলো আমলে নিলে বলতে হয় যে এসব চলচ্চিত্র সমাজের ঠিক সৎ বা সহি পরিবেশন নয়। তার সঙ্গে নানা রকম রাজনীতি-সংস্কৃতি, আশা-আকাঙ্ক্ষা-অভিলাষের মিশেল আছে। সেই অর্থে কোনো শিল্পমাধ্যমই সমাজকে সৎ কিংবা সহিভাবে পরিবেশন করতে পারে না। সেটা সম্ভবত শিল্পের কাজও নয়।
কাহিনি যাই-ই হোক, বজরঙ্গি ভাইজান চলচ্চিত্রটিকে আমরা নিশ্চয়ই বর্তমান পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের বাস্তব বিবরণ হিসেবে পাঠ করছি না; বরং একে ভারতের পাকিস্তান তথা প্রতিবেশী রাষ্ট্রবিষয়ক অভিলাষের রূপরেখা হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে। এটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অভিলাষ দিয়ে ভারতের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি প্রভাবিত হবে। ছবিটির জনপ্রিয় হওয়া থেকে এই আভাস পাওয়া যায়।
পাকিস্তানকে ভারত তার রুপালি পর্দায় যেভাবে মোকাবিলা বা প্রদর্শন করে, তাকে মোটামুটিভাবে দুটি পর্বে ভাগ করা যায়। দ্বিতীয় পর্বের কথা আগে বলি। মুখ্যত, বীর-জারা (২০০৪) নামের চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে ভারত-পাকিস্তানের রুপালি পর্দার রাজনীতি দ্বিতীয় পর্বে প্রবেশ করে। অবশ্য কোনো কোনো পাকিস্তানি সিনে-সমালোচকের দাবি, বীর-জারা স্রেফ পাকিস্তানি ব্লকবাস্টার সিনেমা তেরে পেয়ার মের (২০০০) অনুকরণ। পাকিস্তানি ছবিটা দেখা হয়নি, তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যা জানা গেল তা হলো বীর-জারার মতো তেরে পেয়ার মে ছবিতেও আন্তসীমান্ত ও আন্তধর্ম প্রেম মুখ্য হয়ে উঠেছে। ভারতের ছবিতে যেখানে ভারতীয় শিখ যুবকের সঙ্গে পাকিস্তানি মুসলিম যুবতীর প্রেমের গল্প বলে, পাকিস্তানি ছবিটা বলে পাকিস্তানি মুসলিম যুবকের সঙ্গে ভারতীয় শিখ যুবতীর প্রেমের কাহিনি। দুটি নমুনা থেকে কোনোরকম সাধারণীকরণ করা হয়তো মুশকিল। কিন্তু এটা অবশ্যই কৌতূহল জাগায় যে এ দুটি আন্তসীমান্ত প্রেমকাহিনিতে হিন্দু-মুসলিম সরাসরি যোগাযোগে যাচ্ছে না, বরং অনেকখানি হিন্দু বাতাবরণে পরিবেশিত শিখ আইডেনটিটি বা আত্মপরিচয় বদলি দায়িত্ব পালন করছে। ভারতের বীর-জারাতে যেমন, পাকিস্তানের তেরে পেয়ার মেতে তেমনই। ফলে এই শিখ অনুপ্রবেশে দক্ষিণ এশিয়ার অধিবাসী হিসেবে আপনার পাঞ্জাবের কথা মনে পড়তে বাধ্য।
প্রথম পর্বে এই সাংস্কৃতিক যুদ্ধটা আরও সরাসরি ছিল। স্মরণ করতে পারেন কিছু ছবির কথা: গাদ্দার, আউর এক প্রেম কাহানি, মিশন কাশ্মীর, বর্ডার, সরফরাজ ইত্যাদি। কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধংদেহী প্রেক্ষাপটে বানানো টান টান জাতীয়তাবাদী উত্তেজনার ছবি। পাকিস্তানের ছবিপাড়ায়ও অনুরূপ নমুনা আছে। এই পর্বের ফিল্মি জাতীয়তাবাদ মোটামুটিভাবে সানি দেওল মার্কা—অপরোক্ষ, পেশিবহুল, সহিংস এবং ‘অপর’কে নির্বিচারে ভিলেনের মতো করেই ভাবে।
বজরঙ্গি ভাইজান-এর ন্যারেটিভ সে তুলনায় অনেক কুশলী। পাকিস্তানি বোবা বালিকা মায়ের সঙ্গে ভারতে ভ্রমণ করতে
এসে ট্রেন থেকে হারিয়ে যায়। আলাভোলা বজরঙ্গি অর্থাৎ হনুমান-পূজারি ভারতীয় হিন্দু যুবক সালমান খান তাকে পায়, কিন্তু বোবা হওয়ার কারণে মেয়েটির হদিস বের করা সম্ভব হয় না। একপর্যায়ে জানা যায়, মেয়েটি পাকিস্তানি। কিন্তু পাসপোর্ট না থাকায় পাকিস্তানের দূতাবাস ভিসা দেয় না। ফলে ভারতীয় বজরঙ্গি বিনা ভিসাতেই মেয়েটিকে নিয়ে পাকিস্তানে রওনা দেয়। সেই যাত্রায় তাকে সহায়তা করে এক পাকিস্তানি ফ্রিল্যান্স টিভি সাংবাদিক। শেষমেশ মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু বজরঙ্গি আটকা পড়ে পাকিস্তান পুলিশের হাতে। শেষে অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক বজরঙ্গি ভাইজানের ব্যাপারে পাকিস্তানে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলে। অবশেষে ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরে আসে পাকিস্তানিদের বজরঙ্গি ভাইজান।
পাকিস্তানকে মোকাবিলায় যারা এর আগে বলিউডের সানি দেওলীয় পদ্ধতির গ্রাহক ছিল না, বজরঙ্গি ভাইজান ছবিটি এমন অনেকেরই চাহিদা পূরণ করেছে দেখা গেল। তাদের অভিমত, পাকিস্তানের সঙ্গে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার কোনো বাসনা এই ছবিতে ফুটে ওঠেনি। অর্থাৎ, এই ছবি পাকিস্তানের জাতিগত ভাবমূর্তিতে কোনোরকম চোরাগোপ্তা হামলা করে না। বরং যথাসম্ভব সহমর্মী থাকার চেষ্টা করে। বীর-জারায় যেখানে জারার পাকিস্তানি এক পাণিপ্রার্থীর প্রতিহিংসার কারণে বীরকে প্রায় দুই যুগ পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকতে হলো তুলনায় বজরঙ্গি পাকিস্তানে কেবল একটা ইন্টারোগেশন সেল ছাড়া আর তেমন কিছুরই মুখোমুখি হলো না। এবং সেটা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার পরেও! এই পর্বে এসে ভারত পাকিস্তানে তার সম্ভাব্য সাংস্কৃতিক এজেন্সিগুলোও খতিয়ে দেখেছে। বীর-জারায় আমরা একজন নারী আইনজীবীকে পেয়েছিলাম, যে এই প্রেমিক যুগলের মিলন ঘটিয়েছিল; বজরঙ্গিতে পাই একজন সাংবাদিককে। তারা পাকিস্তানের ভারতীয় বিবেক হিসেবে কাজ করে। ফলে পর্দায় তাদের উপস্থিতি সাংঘাতিক সরব।
সাম্প্রতিক কালে রুপালি পর্দায় পাকিস্তানকে মোকাবিলায় সানি দেওলীয় ড্যাশিং পদ্ধতির এস্তেমাল করতে চাইছে না ভারত। বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ করে সুপারপাওয়ার ভারত একসময়ের নিউক্লিয়ার পাওয়ার বর্তমানে টালমাটাল পাকিস্তানের এমন আলাভোলা বজরঙ্গি ভাই হতে চায় কেন? এই বিদ্বেষ আর সহিংসতার রাজনীতির কারণে পাকিস্তানের খাল বেয়ে আইএসের কুমির ভারত পর্যন্ত চলে আসতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে? বিশেষ করে ইরাক-সিরিয়া-আফগানবাহিত চরমপন্থার বর্তমান যে অবস্থা, তাকে আমদানি কিংবা মোকাবিলা করতে সম্ভবত কোনো জাতিরাষ্ট্রই চাইবে না। ভারত তো নয়ই।
ফলে এই বজরঙ্গি ভাই-ই বর্তমানের পাকিস্তানকে প্রদেয় ভারতের ঈপ্সিত আত্মপরিচয়। পাকিস্তানকে ভালোবাসে সে, মিথ্যা বলে না, বিপন্নকে ফেলে যেতে পারে না, এমনকি কোনোরকম যুদ্ধে নামারও পাঁয়তারা করে না। ভুলে যান যুদ্ধংদেহী সানি দেওলের কথা, কাশ্মীরে গত এক দশকে ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত অসংখ্য মানুষের কথা! আত্মপরিচয় জিনিসটা তো পাথরে খোদাই করা কিছু নয় যে নানাভাবে তাকে বানিয়ে তোলা যায়। দেখবেন, আপনার চেতনার রঙেই পান্না সবুজ হয়ে উঠবে! জনসংস্কৃতিতে এমন নমুনা বিস্তর। ভারতের চলচ্চিত্রে এই প্রবণতা তো আরও পুরোনো। স্রেফ জাতিগত অভিলাষের ফিকশনকে ঐতিহাসিক কাঠামোতে পরিবেশন করার কাজ সে আরও আগেই করে এসেছে। ১৯৪২ আ লাভ স্টোরি আর লগন ছবি দুটি যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের জন্য এটুকু ইশারাই কাফি!
বজরঙ্গি পাকিস্তানের যে মাসুম আত্মাটিকে খোঁজে, তার চেহারা কেমন? অতি সুন্দর সে, প্রায় ব্রাহ্মণদের মতো। কিন্তু বোবা, কথা বলতে পারে না। তার অব্যক্ত মুখে ভাষা ফোটাতে হবে। জীবন দিয়ে হলেও তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে। সে জন্য প্রয়োজনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নিয়ম-নীতিকে অগ্রাহ্য করতে হবে। আর সেটা সৈনিকের মতো যেমন নয়, চোরের মতোও নয়। সহজ-স্বাভাবিক অবৈধ অনুপ্রবেশ, যার পেছনে একটা শক্তিশালী নৈতিক বিবৃতিও থাকবে। ফলে বজরঙ্গি ভাই ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া পাকিস্তানে গিয়েও নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান থাকে। তদুপরি, পাকিস্তানের ‘নিষ্পাপ’ সত্তাটিকে ‘নিপীড়ক’ সত্তাটির হাত থেকে রক্ষা করার দায়ও ভারতের, তথা বজরঙ্গির। ফলে পাকিস্তান পুলিশের কাছেও এই হারিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি বাচ্চাটিকে সঁপে দিয়ে নিশ্চিত হওয়ার অবকাশ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে সাম্প্রতিক কালে একক পরাশক্তি হয়ে যাওয়া ভারতের পক্ষে এর চেয়ে শ্রেয়তর করণীয় আর কী থাকতে পারে?
অন্যদিকে ভাবুন, ক্রমাগত আত্মঘাতী বোমায় ছিঁড়েখুঁড়ে গিয়ে একদার প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান বলিউডের সানি দেওল–মার্কা কৌশলকে কীভাবে বেকার বানিয়ে দিয়েছে! বর্ডারে আর কাশ্মীরে ভারতের এত বাহাদুরির প্রয়োজনও বুঝি ফুরিয়েছে। দিন বদলেছে অনেক। চাইলে এখন প্রতিবেশীদের সীমানা দিয়ে ঢুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী পলাতকদের ধাওয়া করে ধরে আনা যায়। বজরঙ্গি নিশ্চয়ই ফেলানীর লাশের মতো সীমানার কাঁটাতারে ঝুলে থাকবে না! অপরাপর রাষ্ট্রের জন্য যা অলঙ্ঘ্য কাঁটাতার, ‘ভাইজান’-এর জন্য তাই-ই খুল যা সিমসিম! আঞ্চলিক সন্ত্রাস দমন ও অপরাপর পবিত্র অজুহাতগুলো তো তৈরিই আছে।
বজরঙ্গি ভাইজান পাকিস্তান তথা দক্ষিণ এশিয়াকে ভারতের এই বার্তাটুকুই দেয়। গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় নিঃশর্ত আন্তরাষ্ট্রিক চলাচল ছাড়া ভারতের পক্ষে এই অঞ্চলে একচ্ছত্র পরাশক্তি হয়ে থাকা মুশকিল। পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগহীন থাকা আরও বিপদের, বরং নানাবিধ অজুহাতে পাকিস্তানকে নজরে রাখা তার জন্য বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার অন্যতম শর্ত। ‘ভালো’ পাকিস্তানকে ‘খারাপ’ পাকিস্তান থেকে বাঁচিয়ে রেখে বাড়ি পৌঁছে দেওয়াও ‘ভাইজান’ হিসেবে তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক নই, জনসংস্কৃতির পাঠক মাত্র। এই লেখা ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নয়, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ তার জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ দিয়ে সমর্থিত। জনসংস্কৃতি নানা অর্থে জনমানসেরই ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সেই জায়গা থেকে দক্ষিণ এশিয়ার ‘ভাইজান’ ভারতের ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক কৌশল সম্পর্কে এ রকম একটি আগাম ধারণাই দেয় বলিউড ফিল্ম বজরঙ্গি ভাইজান।