Showing posts with label অনান্য. Show all posts
Showing posts with label অনান্য. Show all posts

Thursday, 13 August 2015

দুই ছেলের কাকে কিডনি দেবেন মা?

নাড়ি ছেঁড়া ধন দুই ছেলে। দুজনেরই এমন এক সমস্যা, যা তাদের কিডনিগুলোকে একপর্যায়ে অকার্যকর করে দেবে। এ পরিস্থিতিতে মা পারেন তাঁর একটি কিডনি দিতে। কিন্তু দুই সন্তানের মধ্যে কাকে সে কিডনিটা দেবেন?
এমন জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছেন চীনের লিয়ান রংহুয়া (৫১)। লিয়ানের দুই ছেলে লি হাইকিং (২৬) ও হাইসং (২৪)। দুজনই কিডনির জটিল রোগে ভুগছেন। বাঁচতে হলে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া যাবে একটি মাত্র কিডনি। প্রয়োজন আরেকটি কিডনির। সে ক্ষেত্রে বাবার কিডনিও নিতে পারছেন না তাঁরা। তিনি উচ্চ রক্তচাপের রোগী।
মা লিয়ান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘জানি না কেন আমার দুই ছেলের এমন অসুখ হলো! ’
লি হাইকিং অবশ্য ছোট ভাইকে মায়ের কিডনি দেওয়ার পক্ষে। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছোট ভাইকে কিডনিটি দিতে চাই। ওর বয়স কম। তাই সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
অসুস্থতার কারণে মেডিকেলের পড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন লি হাইকিং। তিনি আশা করেন, খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই কারও না কারও কাছ থেকে তিনি কিডনি পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ‘যদি না পাই, তাহলে আমাকে ডায়ালাইসিস করাতে হবে।’
চীন গত কয়েক বছর ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে এ চাহিদা মেটানো হচ্ছিল। বিশ্বজুড়ে এর কঠোর নিন্দা শুরু হলে এ বছরের শুরুর দিকে এভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন যারা স্বেচ্ছায় অঙ্গ দান করতে চায়, তাদের অঙ্গই কেবল নেওয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জাতীয় ব্যাংক। যাদের অঙ্গ অন্যদের সঙ্গে বেশি খাপ খাপে এবং যেসব অঙ্গ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, এসব অঙ্গ সংগ্রহের জন্য এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, এতে অঙ্গ দানে মানুষের ওপর জোরজুলুম বাড়বে।
সরকার জানায়, এ বছর দেশে ১২ হাজার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রয়োজন তিন লাখ মানুষের। এ চাহিদাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কালোবাজার। কয়েক সপ্তাহ অনুসন্ধান চালিয়ে বিবিসি এর প্রমাণ পেয়েছে। দেখা গেছে, ২১ বছরের এক তরুণ জুয়া খেলতে গিয়ে ধার করা অর্থ পরিশোধে নিজের একটি কিডনি সাত হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই যুবক জানান, পাচারকারীরা অনলাইনে এই বেচাকেনার কাজটি সারে গোপনে। তাঁর তথ্যমতে, তাঁকে প্রথমে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁকে কয়েক সপ্তাহ একটি হোটেলে রাখা হয়। এরপর একদিন তাঁর চোখ বেঁধে তাঁকে একটি গাড়িতে করে একটি খামারবাড়িতে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা ছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে, নিজেকে অন্য একটি খামারবাড়িতে আবিষ্কার করেন।

Tuesday, 11 August 2015

অফিসে কত ছেলে মানুষ, কেমন দেখায়!


বছর চারেক আগের কথা, আমার এক সহকর্মী এসে বলল, আপু সুস্মিতাকে বলেন ওর পেটটা ভালো করে ঢেকে রাখতে। অফিসে কত ছেলে মানুষ, কেমন দেখায়? আমি তাকে বললাম, কেমন দেখায় মানে? ও কি কোনও অপরাধ করেছে যে, সেই অপরাধ তাকে ঢেকে রাখতে হবে? এটা এক ধরনের সৌন্দর্য, স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। কেন এটা নিয়ে লুকোচুরি খেলতে হবে?
জাতি হিসেবে আমরা আবেগী, সহমর্মী। তবে এই সহমর্মিতা কখনও কখনও আমাদের অজান্তেই অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ধরুন আপনার একজন সহকর্মী মা হতে চলেছেন। আপনি স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি আপনার আন্তরিকতা, সহমর্মিতা জানাতে তার শারীরিক খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তার কোনও কষ্ট হচ্ছে কি না জানতে চাইছেন, কখনও দিনে একবার, কখনও একাধিকবার।
আবার কখনও প্রায় প্রতিদিনই তাকে প্রশ্ন করছেন- আপনি ছুটিতে যাচ্ছেন কবে? আপনি কেন এখনও কাজ করছেন? আপনি এতো কাজ করছেন কেন, আপনি তো অসুস্থ?
ভাবতে পারেন, এতে দোষের কী? আমি তো তার প্রতি সহমর্মী! অবশ্যই আপনি একজন সহানুভূতিশীল সহকর্মী। কিন্তু আপনি যাকে প্রশ্নগুলো করছেন তাকে এই সময় এসব প্রশ্ন করাটা কতটা যৌক্তিক, চলুন সেটা একবার ভুক্তভোগীর চোখ থেকে দেখি। গর্ভধারণ খুবই স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া, এটা অসুস্থতা নয়। এটা ঠিক এসময় একজন মায়ের বাড়তি খেয়াল দরকার। তবে সেটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই।
কোনও চিকিৎসক বলেননি এসময় কাজ করা যাবে না, বরং এসময় সে যত স্বাভাবিক থাকবে তার মা হবার পুরো প্রক্রিয়াটিও ততই কষ্টহীন হবে। তবে যাদের গর্ভধারণজনিত জটিলতা থাকে তাদের বিষয় আলাদা। আপনি যখন আপনার সহকর্মীকে প্রায় প্রতিদিনই একই প্রশ্ন করছেন, ছুটিতে যাবেন কবে? তার মনে হতেই পারে সে এই অফিসে কাজ করবার জন্য এখন অযোগ্য হয়ে গেছে। তার সঙ্গে কাজ করতে আপনার হয়তো সমস্যা হচ্ছে।
আমার এক বন্ধবীর গল্প বলি। আমরা দুজনেই তখন এটিএন বাংলায় কাজ করি। আমার বান্ধবীটি মা হতে যাচ্ছে, প্রতিদিন বিকেলের শিফটে সে অফিসে আসে, টুকটাক কাজ করে, অফিসের সবার সঙ্গে গল্প করে। ওর সময়টা ভালো কাটে। কিন্তু একটা সময় শারীরিকভাবে অফিস করার সামর্থ্য থাকার পরও সে ছুটি নিতে বাধ্য হয়, কেবল সহকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে বিরক্ত হয়ে।
সবার ওই একই প্রশ্ন, ছুটি কবে নেবেন? যেন এছাড়া ওর প্রতি মায়া দেখাবার কোনও উপায় নেই। সত্যিই যদি আপনার সহানুভূতি দেখাতে হয়, অনেক উপায় আছে। একটু খোঁজ নেন, তার মাতৃত্বকালীন ছুটির যে অধিকার সেটা সে যথাযথভাবে পাচ্ছে কি না? আপনার সহকর্মীর সন্তানের জন্য ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা আছে কি না?
সহকর্মীর প্রতি আচরণ কেমন হতে পারে আর কেমন হয়, সে বিষয়ে আরও একটি গল্প বলি। একটি জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলে আমার এক সহকর্মী সন্তান সম্ভবা হলেন। সহকর্মীরা তার প্রতি সমান সমবেদনা জানাল। নিয়মিত তার খবর নেওয়া হলো। যেহেতু নতুন অফিস সন্তান সম্ভাব্য কোনও নারীর কী ধরনের সুযোগ দেওয়া হবে তা নিয়ে দেরিতে হলেও সিদ্ধান্ত আসলো, মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটি দেওয়া হবে।
যথারীতি মেয়েটি ছুটিতে যায়। মা হয়ে ফিরে আসে সে। অফিস করছে। এর দু’বছর পর সে যখন কাজের জায়গা বদল করল, তার প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় অফিসের দেওয়া বেতনের টাকা পুরোটা কেটে রাখা হলো। এটাই নাকি নিয়ম! আর এই অদ্ভুত নিয়ম নিয়ে তার কোনও সহকর্মী কার্যকর কোনও প্রতিবাদও করল না। আবারও সেই মায়া ভরা আহা!
যেই হাহাকারের কোনও ফল নেই! যে সহমর্মিতা মানুষকে সহযোগিতার বদলে সংকুচিত করে তার কি প্রয়োজন রয়েছে। অনেক প্রশ্নই থাকে। কেউ কেউ উপদেশ দেন, বিশেষ করে নারী সহকর্মীরা। তারা বলেন, ঝামেলা এড়িয়ে চলাই ভালো।
আমার মনে আছে, কেবল একজন গর্ভবতী মহিলা দাঁড়িয়ে আবহাওয়া খবর পড়তেন বলেই আমি একটা সময় বিবিসির ওয়েদার বুলেটিন দেখতাম। এক ধরনের মায়া অনুভব করতাম। আর আমাদের এখানে, গর্ভাবস্থার লক্ষণ প্রকাশ পেলেই তাকে টেলিভিশনের পর্দায় না থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়। আর এ ব্যাপারে নারী সহকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। যা আদৌ কাম্য নয়।

Monday, 10 August 2015

যেখানে বিয়ের আগেই মা হওয়া বাধ্যতামূলক!

যৌন সম্পর্কের বৈধতা দিয়ে থাকে বিবাহ। এটা সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি। তবে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায় টোটো সমাজে। সেখানে বিয়ের আগেই নারীকে গর্ববতী হতে হয়। টোটো ভারতের এক অতি ক্ষুদ্র জন গোষ্ঠী। পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার উত্তর প্রান্তে ভুটান সীমান্তে তোর্ষা নদীর ধারে টোটোপাড়া গ্রামে এঁদের বাস।

সে অঞ্চলে মেয়েদের বিয়ের আগে মা হওয়াটা কিন্তু বাধ্যতামূলক। সেখানে মাতৃত্বই দেয় পছন্দের সেই পুরুষকে বিয়ের অধিকার। এটাই রেওয়াজ টোটো সমাজে। সেখানে সবমিলিয়ে ১ হাজার ৫৮৪ টোটোর বাস। এখনো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন এই উপজাতিরা।

টোটো সমাজের পুরুষদের কোনো মেয়েকে বেছে নেয়ার অধিকার রয়েছে। ছেলেটির পছন্দ হলে প্রথমে ছেলের বাবা মেয়ের বাবার বাড়িতে দু'হাঁড়ি 'ইউ' ও একটা লাল মুরগি নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। একে বলে 'বাগদান' পর্ব। আগে সাত-আট বছর হলেই বাগদান পর্ব সেরে ফেলা হতো। তারপর কয়েকবছর পর মেয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে আসতো এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতো। মেয়ে গর্ভবতী হলেই বিয়ের পর্ব সারা হতো। অনেকসময় বাগদানের পরেই মেয়ে ছেলের বাবার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি চলে আসে। নিজেদের পছন্দমতো বিয়ের ব্যাপারটা টোটো সমাজে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত আছে। এই ধরনের বিয়েকে বলা হয় 'নিয়াংকোষা'প্রথা।

টোটোদের মধ্যে পণপ্রথা নেই। বিবাহ বিচ্ছেদ বা বিধবা বিবাহ বরাবরই স্বীকৃত। তবে এইসব বিষয়ে সমাজ কতগুলি নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই টোটো সমাজ ব্যাভিচারিতা সহ্য করে না। এক্ষেত্রে সমাজপতিদের শাসন বড় কড়া। তবে শিক্ষার উন্নতি হওয়ার ফলে আগের অনেক নিয়মই এখন শিথিল হয়েছে - See more at: http://www.alokitobangladesh.com/online/special/2015/08/11/8934#sthash.07JN7Dp4.dpuf

Sunday, 9 August 2015

নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার


মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভৈরব নদীতে নৌকাডুডিতে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দল।
সোমবার সকাল ৮টার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
এরা হলেন- রসিকপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে তানিয়া (১৩) ও হাশেম আলির মেয়ে ববিতা (১২)। তারা দু’জনই বাগোয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ সেলিম রেজা বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে ডুবুরি দল দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ১৬ ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালানোর পর ৮টার দিকে লাশ দুটি পাওয়া গেলে।’
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সালেক উদ্দিন জানান, উদ্ধার দুই ছাত্রীর লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উপজেলার বাগোয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটির পর রবিবার বিকেলে রসিকপুর খেয়া ঘাটের নৌকায় করে ২৫ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ শিক্ষার্থীদের বহনকারী নৌকাটি মাঝনদীতে ডুবে যায়। এ সময় স্থানীয়রা ২৩ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারলেও দু’জন নিখোঁজ ছিল।

Saturday, 8 August 2015

নতুন বাস নামাতে মূল বাধা মালিক সমিতির চাঁদাবাজি

ঢাকাসহ সারা দেশে নতুন বাস-মিনিবাস নামানোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা মালিক সমিতিগুলোর চাঁদাবাজি। বাস নামানোর আগেই মালিক সমিতির সদস্যপদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ২ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাস-মিনিবাস না নামার এটি অন্যতম কারণ। এই সুযোগে রাস্তা দখল করে নিয়েছে নানা ধরনের তিন চাকার ছোট্ট যানবাহন।
সারা দেশে চলাচলরত বাস-মিনিবাসের অন্তত ৩০ শতাংশ ২০ বছরের বেশি পুরোনো, লক্কড়-ঝক্কড়। আর ৬১ শতাংশের বয়স ১০ বছরের ওপরে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বাস নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার থেকে জানা গেছে, সারা দেশে বাস-মিনিবাসের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ৬১ হাজার ৫৮৯টি। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৮২২টি বাস-মিনিবাস ১০ বছরের পুরোনো। ২০ বছরের পুরোনো বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ১৮ হাজার ৫৪টি।
বিআরটিএর আরেক হিসাবে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালের পর থেকে সারা দেশে বাস-মিনিবাসের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ৪৩ হাজার ৫৩৫টি। অথচ এই সময় অটোরিকশা ও টেম্পোর নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ১৬২টি। কিন্তু সারা দেশে বৈধ-অবৈধ অটোরিকশা, নছিমন, করিমন, ভটভটি ও ইজিবাইক রয়েছে ১৩ লাখের বেশি। এগুলোকে জাতীয় মহাসড়ক থেকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে এখন নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে কত মানুষের জন্য কী পরিমাণ গণপরিবহন দরকার, এই বিষয়ে কোনো গবেষণা নেই। তবে বিদ্যমান গণপরিবহনব্যবস্থা যে মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, এটা পরিষ্কার। তা না হলে তো ধীরগতির তিন চাকার যানের এত চাহিদা থাকত না। তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিকদের সিন্ডিকেটের কারণে গণপরিবহনে বিনিয়োগ কমে গেছে। দূরপাল্লার কিছু পথ বাদ দিলে বিদ্যমান পরিবহনব্যবস্থা আরামদায়ক কিংবা আকর্ষণীয় নয়। ফলে মানুষ ধীরগতির যানের দিকে ঝুঁকছে।
পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বিআরটিএ এবং পরিবহন কমিটির অনুমোদনের আগেই মালিক সমিতির সদস্য হতে হয়। আর মালিক সমিতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের নেতা বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন। এই চাঁদা আদায়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোরও সমর্থন থাকে।
কয়েকজন পরিবহনমালিক প্রথম আলোকে বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বাস নামানোর পর মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও পুলিশকে দিতে হয় দৈনিক বা মাসিক চাঁদা। এমনকি মালিক সমিতি না চাইলে সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাসও চলতে পারে না। গত এক দশকে মালিক সমিতির চাপ, ধর্মঘট ও ভাঙচুরে শিকার হয়ে বিআরটিসিই অন্তত ৫০টি পথে বাস চলাচল গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে।
অবশ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, এখন আর চাঁদা নিয়ে সমিতির সদস্য করার বিষয় নেই। অতীতে ছিল। টুকটাক কোনো জেলায় চাঁদা নেওয়ার খবর পেলে তাঁরা প্রশাসনকে নিয়ে মোকাবিলা করে থাকেন।
বাসের দামের চেয়ে সমিতির চাঁদা বেশি: বছর তিনেক আগে ভোলা-চরফ্যাশন পথে চালানোর লক্ষ্যে ১১ লাখ টাকা দিয়ে একটি পাঁচ বছরের পুরোনো বাস কিনেছিলেন মেহেদী হাসান। কিন্তু বাস কেনার পর জানতে পারলেন, সরকারের অনুমোদনের আগে স্থানীয় মালিক সমিতির সদস্যপদ লাগবে। সদস্যপদের জন্য গেলে তাঁর কাছে দাবি করা হয় ১৮ লাখ টাকা। ব্যর্থ হয়ে পরে মেহেদী বাসটি বিক্রি করে দেন।
মেহেদী হাসান বলেন, ১৮ লাখ টাকায় সদস্যপদ নিয়ে একটি বাস চালিয়ে পোষাবে না ভেবে তিনি সরে আসেন। তবে সম্প্রতি ওই জেলায় একজন ২০ লাখ টাকায় মালিক সমিতির সদস্যপদ কিনে বাস নামিয়েছেন।
১৯৯৬ সালের পর ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কাদের মোল্লা মালিক সমিতিকে পাশ কাটিয়ে চারটি নতুন বাস নামিয়েছিলেন। কিন্তু তিন মাসের বেশি টিকতে পারেননি।
ফজলুল কাদের মোল্লা বর্তমানে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই জেলার বেশির ভাগ বাসই ছিল কয়েকবার ইঞ্জিন-বডি পরিবর্তন করা লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা। তিনি চারটি নতুন বাস নামিয়েছিলেন। কিন্তু মালিক সমিতির সদস্যপদ না নেওয়ার কারণে তাঁর বাস ভাঙচুর করা হয়। পরে তিনি বাস বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।
ভোলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সমিতির মালিকানায় বাস, জমিসহ অনেক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আছে। সদস্য হওয়ার অর্থ হচ্ছে ১৩-১৪ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হওয়া। এ জন্যই চাঁদার ব্যবস্থা।’ তিনি জানান, সমিতি থেকে প্রতি মাসে সদস্যদের ১০ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হয়।
ভোলার মালিক সমিতির এই চিত্র বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। কম-বেশি এটাই সারা দেশের চিত্র। সম্প্রতি সিলেট পথে চলাচলকারী একটি বাস কোম্পানির মালিক পিরোজপুরের মালিক সমিতিকে তিন লাখ টাকা দিয়ে সেই জেলায় বাস চালানোর অনুমতি পেয়েছেন। ঢাকায় দিশারী পরিবহনের অধীনে একটি বাস নামাতে মালিককে ব্যয় করতে হয় তিন লাখ টাকা। তবে ভুক্তভোগীদের কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি।
পিরোজপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান ওরফে মহারাজ। কিন্তু তাঁর নিজের কোনো বাস নেই। তিনি স্থানীয় সাংসদ এ কে এম এ আউয়ালের (সাইদুর রহমান) ভাই।
ঢাকা থেকে পিরোজপুর পর্যন্ত বাস চালানোর অনুমতি দিতে একটি কোম্পানির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন মশিউর রহমান। তিনি গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তবে জেলায় বাস চালানোর জন্য বিআরটিএর অনুমোদনের বাইরে আমাদের অনুমোদন নিতে হয়। নতুবা আমাদের মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ঢাকার পরিবহন কোম্পানিকে শর্ত দিয়েছি, যাতে ভোর ছয়টার আগে শহর ছাড়ে।’
সমিতির সদস্য হতে মোটা অঙ্কের চাঁদা লাগে কি না জানতে চাইলে মশিউর রহমান বলেন, পিরোজপুরে চার-পাঁচ বছর ধরে সদস্য নেওয়া বন্ধ আছে। কারণ, নতুন বাস নামলে পুরোনো মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি দাবি করেন, আগে পিরোজপুরে দৈনিক ১৬৫ টাকা চাঁদা নেওয়া হতো। তিনি এসে কমিয়ে ১০ টাকা করেছেন। সমিতি চালানো কঠিন হয়ে গেলে চাঁদা ২৫ টাকা করা হয়।
নিজের বাস না থাকার বিষয়ে মশিউর বলেন, ‘আমার বাস নেই এটা সত্যি। তবে আগে ছিল। নেতা হওয়ার জন্য বাস থাকার চেয়ে সদস্যপদ থাকা বাধ্যতামূলক।’
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে বাস যোগাযোগ বেশ জনপ্রিয়। সেখানকার মালিক সমিতি নতুন বাস নামানোর ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয় বলে মালিকদের সূত্রে জানা গেছে। ওই জেলায় ৮০০-৯০০ বাস-মিনিবাস চলাচল করত। এখন শ দেড়েক বাস কমে গেছে। টাঙ্গাইলে বাস মালিকদের দুটি সংগঠন একত্র করে এর সভাপতি হন স্থানীয় সাংসদ আমানুর রহমান খানের ভাই জাহিদুর রহমান। খুনের মামলায় খান পরিবারের সদস্যরা এখন পলাতক।
অবশ্য জেলার বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বাস শাখার সাধারণ সম্পাদক তাবিবুর রহমান দাবি করেন, সমিতির কেউ বাস নামালে পাঁচ হাজার এবং বাইরের হলে ১০ হাজার টাকা নিয়ে সদস্যপদ দেওয়া হয়। এর বাইরে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই।’
টাঙ্গাইলের নাগরিকেরা দীর্ঘদিন ধরে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নামানোর দাবি করে আসছিলেন। বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন আগ্রহীরা। সর্বশেষ আক্তার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি তুললে প্রশাসন তৎপর হয়। সনি এন্টারপ্রাইজ নামে চারটি বাস নামেও। তবে জেলার ঢাকামুখী সব বাসের গন্তব্য মহাখালী টার্মিনাল হলেও সেই এসি বাস সার্ভিসকে মহাখালীতে থামতে দেওয়া হয় না। তাকে দাঁড়াতে হয় শ্যামলীতে।
লক্কড়-ঝক্কড় যান বাড়ছে: বিআরটিএ সূত্র জানায়, কাগজেপত্রে বর্তমানে সারা দেশে প্রতি মাসে গড়ে ২০০ বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এর অর্ধেককেই এক জেলা থেকে এনে অন্য জেলায় কিংবা এক রুট থেকে অন্য রুটে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়। নতুন বাসগুলো নামছে দূরপাল্লার পথে।
মোটরযান আইন অনুসারে, যত দিন ফিটনেস থাকবে, তত দিন একটি গাড়ি চলতে পারবে। তবে নির্বাহী আদেশে রাজধানীতে বাসের ২০ এবং ট্রাকের জন্য ২৫ বছরের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ২০ বছরের অধিক পুরোনো বাসও ঢাকার রাস্তায় চলছে।
বিআরটিএর হিসাবে, বর্তমানে সারা দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫ হাজার। এর মধ্যে বাস-মিনিবাস ৪১ শতাংশ বা প্রায় ২৫ হাজার। অবশ্য ফিটনেস সনদ হালনাগাদ না করলেও তা ফিটনেসবিহীন গাড়ির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, ফিটনেসবিহীন যানের সংখ্যা পাঁচ হাজারের মধ্যে থাকলে বলতে হবে পরিবহনব্যবস্থা ঠিক আছে।
মহানগরগুলোতে বাস চলাচলের অনুমতি (রুট পারমিট) দেয় পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বাধীন পরিবহন কমিটি। জেলায় কমিটি হয় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে। আন্তজেলা পরিবহনের চলাচলের অনুমোদন দেয় বিআরটিএর সদর কার্যালয়। সব কমিটিতেই মালিক-শ্রমিকের প্রতিনিধি থাকেন। বিআরটিএর প্রতিনিধি কমিটির সদস্যসচিব এবং সংস্থাটি নথিপত্র সংরক্ষণ করে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক বলেন, ছোট গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির অর্থ হলো যানজটকে ডেকে আনা। আর সড়ক নিরাপত্তা তো বিপন্ন হবেই। এ থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে তিনি বলেন, সবচেয়ে ভালো হয় রেল ও নৌপথব্যবস্থার উন্নয়ন। বিকল্প হিসেবে অবশ্যই বাসকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এর জন্য সরকারকে সুস্থ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।

জীবন বাঁচ‍াতে বিয়ে করছেন রোহিঙ্গা মেয়েরা



জীবন তাদের কাটে অভাব-অনটনের মধ্যে।প্রতিনিয়তই তাদের নির্যাতন সহ্য করতে হয়।কিন্তু কিছুই করার থাকে না। তবে রোহিঙ্গা মেয়েদের উপায় একটা আছে। সেটা হলো বিয়ে। বিয়ে করলেই মুক্তি। ন‍া হলে মুখ গুঁজে পড়ে থাকতে হবে অভাব অনটন এবং নির্যাতনের মধ্যে। এভাবেই দিন কাটাতে হচ্ছে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের অগণিত মেয়েদের।

সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বে বিধ্বস্ত তাদের জীবন এবং বাসস্থান। বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবককে বিয়ে করে তারা পাড়ি দিচ্ছেন মালয়েশিয়ায়। কখনও কখনও বিয়ে করছেন সম্পূর্ণ অপরিচিত কাউকে। মায়নামারের রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ দিন কাটাচ্ছেন দক্ষিণ থাইল্যান্ডসহ অন্যত্র ছড়িয়ে থাকা শরণার্থী শিবিরে। সেখানেই থাকছে পাচারকারীরা।


রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের কাছে টোপ ফেলা হচ্ছে। দিতে হবে মোটা অর্থ। তবেই মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। যারা টাকার জোগাড় করতে পারছেন না‚ তাদের মেয়েদের সামনে রাখা হচ্ছে বিয়ের প্রলোভন। বিয়েতে রাজি হলে রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনও যুবক নিজেই পাচারকারীদের হাতে অর্থ তুলে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শরণার্থী শিবিরের তরুণী-যুবতীদের।

পরিবারের লোকজনও সমর্থন করছেন এই বিয়ে। যাতে একটু হলেও ভালভাবে বাঁচতে পারে মেয়েরা।


বিয়ে না হলে শরণার্থী শিবিরেই পড়তে হচ্ছে নারী পাচারচক্রের কবলে। এমনকি বিয়ে করেও নিস্তার নেই।অনেক সময়েই‚ বিয়ের নামে মেয়েরা হাতবদল হয়ে যাচ্ছে। পা রাখতে হচ্ছে অন্ধকার জগতে।সব জেনেও পরোক্ষ মদদ দিতে হচ্ছে অসহায় পরিবারগুলোকে।ইতোমধ্যে বহু নর-নারী পাচারের শিকার হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন। এখনো অনেককে উদ্ধার করা হচ্ছে পাচারকারীদের হাত থেকে।–টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এই সময়।