Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts

Thursday, 13 August 2015

‘যারা ব্লগার হত্যাকারীদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার চান, তারা বোকা’

ব্লগার হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার যারা দাবি করছেন তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে জয় লিখেছেন, ‘আমরা কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি এবং তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলছে। আমরা বেশ কিছু তথ্য উন্মুক্ত করিনি। যেন তদন্তগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যেসব লোক তাৎক্ষণিক গ্রেফতার দাবি করেন, তারা অবুঝ বোকা লোক।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয় বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের সফল যুদ্ধের কারণেই ব্লগারদের এই হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা ব্যাপক আকারে হামলা চালাতে ব্যর্থ হয়েই এসব বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়েছে।’ এ ধরনের একক পরিকল্পনাগুলো উন্মোচন করাটা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Saturday, 8 August 2015

আরেকটি ১৫ই আগস্টের সতর্কতা নাসিমের

ঢাবি : আরেকটি ১৫ই আগস্ট সম্পর্কে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি বলেছেন, আমাদের কোনো প্রতিপক্ষ নেই। আমাদের প্রতিপক্ষ দুর্বল হয়ে গেছে। তার মানে মাঠে এখন আমরা একাই। এখনই কিন্তু আমাদের ভুল হতে পারে। আমাদের মধ্যে সুযোগ সন্ধানীরা অনুপ্রবেশ করতে পারে। একটি খুন আরেকটি ১৫ই আগস্টের জন্ম দিতে পারে।
শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গমাতা শেখ ফুজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আমাদের পরিবারতো অনেক বড় পরিবার। কি দরকার আমাদের পরিবারকে বাড়ানো? এই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগকে দিয়ে কি হবে? যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে রাজনীতি করেছে এর বাইরে কেন নতুন লোক আনতে হবে। এতে আমাদের কি লাভ?
তিনি বলেন, আমাদের এই পরিবার বাড়ানোর ফলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগে অনেক সুযোগ সন্ধানী ও মতলববাজরা প্রবেশ করতে পারে। যে কোনো উপায়েই হোক অপরাধীদের নিষ্কৃতি করে হলেও সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনার হাতকে দুর্বল করা যাবে না। এর আগেও ক্ষমতায় থাকাকালীন দেখেছি সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই ছাত্রলীগ।
১৫ই আগস্টের আগেও ঠিক এই অবস্থা হয়েছিল সবাই বাকশাল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কি হলো আমাদের জাতির জনককে রক্ষা করতে পারলাম না। বর্তমানেও এমন অবস্থাই হয়েছে। এজন্য ছাত্রলীগকে সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যেই বিশ্বাসঘাতকরা লুকিয়ে আছে। ১৫ই আগস্ট খুনী মুস্তাকের মতো বিশ্বাসঘাতকরাই এই সুযোগ নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি দারুস সালাম শাকিলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াজের সঞ্চালনায় এ সময় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাবি কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক রাশেক রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
- See more at: http://bangla.uttaranews24.com/2015/08/08/77001#sthash.2ljUujRB.dpuf

Friday, 7 August 2015

কক্সবাজারের সব পুলিশ আর্থিকভাবে লাভবান

মানব পাচারের ঘটনায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের সব কর্মকর্তা ও সদস্য আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। পাচার প্রতিরোধে তাঁরা যেমন অভিযান চালাননি, তেমনি এ-সংক্রান্ত মামলার আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেননি তদন্তকারীদের কেউই। উল্টো পাচারকারীদের পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তা করেছেন। এ ক্ষেত্রে পদস্থ কর্মকর্তারাও কোনো দায়িত্ব পালন করেননি।
এসব কারও অভিযোগ নয়। পুলিশ তদন্ত করে এ তথ্যগুলো পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে আলোচিত মানব পাচার অপরাধের মামলাগুলোর বেহাল অবস্থাও ফুটে উঠেছে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে।
পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি তওফিক মাহবুব চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন গত ২৯ জুলাই পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কেউ অপরাধ করে যাতে পার পেয়ে না যায়, সে জন্য পুলিশ প্রশাসন দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুটি কমিটি গঠন করেছে। এ জন্য পুলিশকে কেউ চাপ দেয়নি। নিজেদের স্বচ্ছতার জন্যই পুলিশ কমিটি করেছে।
মানব পাচার ছাড়াও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে কক্সবাজার জেলার ১২ জন পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের আরেকটি তদন্ত কমিটি। সিআইডির ডিআইজি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ২ আগস্ট পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবেদনে ১২ পুলিশ সদস্য ছাড়াও ইয়াবা-সংক্রান্ত মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার জন্য জেলার পুলিশ সুপারকে কৈফিয়ত তলব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এক সার্কেল অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকনাফ ও উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং এসবি ও ডিবির পরিদর্শককে প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, এটা খুবই বড় অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়ে যাঁরা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাঁদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন।
পুলিশ কীভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, তার ব্যাখ্যা ওই তদন্ত প্রতিবেদনে নেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুরুল হুদা বলেন, এখানে বৈধভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।
গত ১ মে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর মানব পাচারের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়ে ওঠে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে অভিযোগ করা হয়, সমুদ্রপথে হাজার হাজার বাংলাদেশি অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। সমুদ্রপথে পাচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কক্সবাজার উপকূল। পাচারের সঙ্গে কক্সবাজার জেলা পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মানব পাচারের সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কক্সবাজারে। এ কারণে সেখানকার পাচারের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত, তদারকি, জেলা পুলিশের কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে আইজিপির নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ ও ১৫ সালের জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ২৩৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ বছরের জুন পর্যন্ত মামলা হয় ৯৬টি। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ বছরের ৪০টি মামলা বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, ৯৬ মামলার মধ্যে মাত্র ছয়টিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বাকি ৯০টিতে ঠিকমতো তদন্তই হয়নি। স্পর্শকাতর এসব মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদও করেনি পুলিশ। আবার উদ্ধার হওয়া লোকদের কাছ থেকে কোনো জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়নি। কিছু আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও তা করা হয়নি।
বেশি মামলা হয়েছে টেকনাফ থানায়। তদন্তে অবহেলার ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘টেকনাফ থানায় যোগদানের পর থেকে ইয়াবা ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। অনেক মামলা তদন্ত করেছি। কিন্তু এখন কেন এ অভিযোগ, তা জানি না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু নিজেদের মামলা নয়, মানব পাচারের ঘটনায় বিজিবি ও কোস্টগার্ড যেসব আসামিদের ধরে দিয়েছিল, পুলিশ তাদেরও ঠিকমতো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। রহস্য উদ্ঘাটনে কেউ কোনো ধরনের চেষ্টাও করেনি। অনেক মামলায় তদন্তকারীরা নিজেরাও আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কক্সবাজার জেলার কিছু পুলিশ সদস্য ও জেলার অন্যান্য সরকারি সংস্থার কিছু সদস্য মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অজানা কারণে উদাসীন। কমিটি মনে করে, পাচার প্রতিরোধে পুলিশ সেখানে কোনো ভূমিকাই পালনই করেনি, উল্টো পৃষ্ঠপোষকদের পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও পাচারকারীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কমিটি জেলা পুলিশ সুপারসহ চার কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে বলেছে, জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ একটি মামলারও তদারক করেননি। তদন্তের ব্যাপারে তিনি কোনো লিখিত নির্দেশনাও দেননি। গুরুত্বপূর্ণ এসব মামলার ব্যাপারে তিনি ছিলেন উদাসীন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ, উখিয়া সার্কেলের এএসপি জসিম উদ্দিন, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান এবং থানার পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, এ নিয়ে তিনি কিছু বলতে চান না। অবশ্য উখিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, গত ছয় মাসে টেকনাফে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ এবং উখিয়ায় ১০০ জন মানব পাচারকারী ও দালালকে আটক করেছে পুলিশ। তিনিও কয়েকজন পাচারকারীকে ধরেছেন বলে দাবি করেন।
কমিটির সুপারিশ: মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত সব দালালই রোহিঙ্গা। এরা মিয়ানমারের নাগরিক। পাচারে ব্যবহার করা ট্রলারের মালিকও তারা। আবার পাচার শুরু হয় মিয়ানমারের জলসীমা থেকে। এ কারণে পাচার বন্ধে রোহিঙ্গা সমাধান খুব জরুরি। তা ছাড়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-তে কেউ যদি স্বেচ্ছায় বিদেশে পাচার হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নেই। এ কারণে এই আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইয়াবা পাচার: গত ২০ জুন ফেনীর লালপুর এলাকা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এএসআই মাহফুজুর রহমানকে ৬ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। এই ইয়াবার মধ্যে কক্সবাজার পুলিশের জব্দ করা ১৩টি ইয়াবাও ছিল। তাঁকে আটকের পর র্যাব জানতে পারে, আরও ১০ পুলিশ সদস্য ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, এসব অভিযোগ লিখিতভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের খুঁজে বের করতে সিআইডির ডিআইজি সাইফুল আলমকে প্রধান করে কমিটি করা হয়।
কমিটি তাদের প্রতিবেদনে মাদক মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, ২০১৫ সালে কক্সবাজারে ৬২১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৭টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে এসব মামলার তদন্তেও অনেক ত্রুটি রয়েছে। এর মধ্যে সদর থানার ১ এপ্রিল দায়ের করা একটি মামলার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ওই মামলার দুজন আসামি ধরা পড়েছে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। আসামিদের রিমান্ডেও আনা হয়নি। তদারককারী কর্মকর্তারাও মামলাটির তদন্ত তদারক করেননি। এমন মামলার আরও কয়েকটি উদাহরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তবে এসব পুলিশ সদস্যের বেশির ভাগ ইয়াবার বাহক হিসেবে কাজ করেন। কক্সবাজারে কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা ঘুরে-ফিরে একাধিকবার কক্সবাজারে আসেন। এঁরাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কমিটি তাঁদের প্রতিবেদনে জেলা ডিবির তিনজন ও বিশেষ শাখার দুজনসহ মোট ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন। এঁদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও টেকনাফের বিপুল জনগোষ্ঠী সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

মুসলমান না হলে আত্মহত্যা করতাম : কাদের সিদ্দিকী




ঢাকা : মাগুরায় যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে মা ও পেটের শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনার জন্য মুসলমান না হলে আত্মহত্যা করতেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
তিনি বলেছেন, ‘কষ্ট করে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। স্বাধীনতার ফসল আজ মায়ের পেটে শিশু গুলিবিদ্ধ। বাংলাদেশ সভ্যদের দেশ । এই দেশে এখন মায়ের পেটও শিশু নিরাপদ নয়। মুসলমান না হলে এই ঘটনা শুনেই আত্মহত্যা করতাম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে গুলিবিদ্ধ মা নাজমা ও শিশু সুরাইয়াকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই কথা বলেন তিনি।
কাদের সিদ্দিকী আক্ষেপ করে বলেন, ‘এখন কারও আবেগ নাই। বিবেক নাই। থাকলে এই ঘটনার পর দেশ জ্বলে উঠত। সরকার সভ্য হলে তারা পদত্যাগ করত।
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য এই পরিবারের দায় সমাজ ও সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে। পৃথিবীর কোথাও এমন ঘটনা ঘটে নাই। অপরাধীদের বিচার চাই। তা না হলে সরকারের পরিণতি ভালো হবে না।
এর আগে কাদের সিদ্দিকী শিশু সুরাইয়াকে দেখতে যান। পরে তার মা নাজমাকেও গিয়ে সান্তনা দেন।
এ সময় কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদ আহমেদ, যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল, ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম দ্বীপ প্রমুখ।

এবারের বর্ষায় অতিবৃষ্টি



বেশ কয়েক বছর পর এবার বর্ষাকালে বেশ দাপট দেখাচ্ছে বৃষ্টি। মে, জুন ও জুলাই মাসের পুরোটা সময় আকাশে ছিল ভারী মেঘ। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসজুড়ে অঝোরে নেমেছে বৃষ্টি। প্রবল বর্ষণে এই বাংলার মাঠঘাট, নদীনালা, খালবিল পানিতে থইথই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে জুলাই মাসে বাংলাদেশে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চাইতে ৬৫ ভাগ বেশি। এর আগে জুন মাসেও ছিল বৃষ্টির দাপট। ওই সময় এর পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ ভাগ বেশি।
বৃষ্টি এই দাপট আগস্ট্রে থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
২০১৪ সালের জুন ও জুলাই মাসে বৃষ্টির চিত্র ছিল ঠিক উল্টো। এ সময় দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ ভাগ বৃষ্টি কম হয়েছিল।
প্রতি বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশে স্বাভাবিক বৃষ্টি প্রত্যাশা করা হয় ৩,৩০৮ মিলিমিটার। কিন্তু এবার এই মাসে বৃষ্টি হয়েছে ৪,৭৫০ মিলিমিটার, যা ১.৪৪২ মিলিমিটার বেশি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সাতটি বিভাগের মধ্যে বৃষ্টি বেশি হয়েছে উপকূলীয় এলাকায়। উত্তরের রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি এখন পর্যন্ত প্রায় স্বাভাবিক। রংপুর বিভাগে স্বাভাবিক চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। চট্টগ্রামে সাধারণত বৃষ্টি হয় ৭২০ মিলিমিটার। সেখানে এর পরিমাণ ছিল ১,৩২২ মিলিমিটার। এটি স্বাভাবিক বৃষ্টির চাইতে ৮৪ ভাগ বেশি। ঢাকা বিভাগে ৪৬ শতাংশ, খুলনায় ১১৯ শতাংশ, বরিশালে ৮১ শতাংশ, সিলেটে ১০ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ২ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। রংপুরে বৃষ্টির আঁচড় লাগেনি। বরং খরার প্রভাব রয়েছে। যেখানে গড় বৃষ্টির চেয়ে ৩৬ ভাগ কম বৃষ্টি হয়েছে।
মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার বিষয়টিকে এবার অতি বৃষ্টির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেনসহ’ বেশ কয়েক বার নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল বলে ধারণা তাদের।
বৃষ্টি হওয়ায় এবার গরম কম পড়েছিল। অন্যদিকে হঠাৎ বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধিতে শঙ্কা আছে বলে মনে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, ‘একই সময় দেশে প্রকৃতি ছিল দুই ধরনের। একদিকে ২৪ ঘণ্টায় টেকনাফে বৃষ্টি হয়েছিল ৪৪০ মিলিমিটার। আবার উত্তরের রংপুর ও দিনাজপুরে ছিল খরার প্রভাব। এটিই দুশ্চিন্তার বিষয়।’
প্রকৃতিতে ভারসাম্য আনার জন্য উপকূলীয় এলাকায় গাছ লাগানোর বিষয়ে জোর দেন তিনি। অন্যদিকে চাষাবাদের জন্য ভূগর্ভের পানির ব্যবহার কমিয়ে পরিত্যক্ত এলাকায় মাছ চাষের পরামর্শও দেন এই আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ।
কয়েক বছরের অতি আর কম বৃষ্টিকে জলবায়ু পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা প্রমাণ করে বলে মনে করেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত। বাংলাদেশে বৃষ্টি হলেও দক্ষিণ ভারতসহ এই অঞ্চলে এর পরিমাণ কম ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন দশকের গড় বৃষ্টি নিয়েই স্বাভাবিক বৃদ্ধির মাত্রা নির্ধারিত হয়। বৃষ্টির সঙ্গে যেহেতু কৃষি জড়িত, তাই বৃষ্টির আঞ্চলিকতার বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে।’
আগস্ট মাসেও বৃষ্টি স্বাভাবিকের মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় স্বাভাবিক বন্যা হতে পারে।
সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও তিনটি নিম্নচাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।