Showing posts with label অপরাধ. Show all posts
Showing posts with label অপরাধ. Show all posts

Thursday, 13 August 2015

বাড্ডায় গুলিতে আ.লীগ নেতাসহ নিহত ২

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে দু’জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় কমার্স কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনের নাম শামসু মোল্লা ও মানিক। এ ঘটনায় আরও দু’জন আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শামসু মোল্লা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মানিক উত্তর বাড্ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে শামসু মোল্লা ও মানিকের মৃত্যু হয়। আহত দুই জনের মধ্যে আব্দুস সালামকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত গামাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ জলিল। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হচ্ছে।এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, তারা চারজন ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালনের বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। এসময় দুর্বৃত্তরা তাদের গুলি করে।

সরকারি চালে ৬৬০ কোটি টাকা নেতাদের পকেটে!

বাজারে চালের দাম ২৬ টাকা কেজি। সেই চালই খাদ্য অধিদপ্তর কিনছে ৩২ টাকা কেজি দরে। বাজার থেকে কিনে কোনো রকমে সরকারি গুদামে পৌঁছাতে পারলেই কেজিতে লাভ ছয় টাকা। খাদ্য অধিদপ্তর ১১ লাখ টন চাল কিনবে। কাজেই প্রতি কেজিতে ছয় টাকা হিসাবে প্রায় ৬৬০ কোটি টাকা জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের পকেটে চলে যাবে। কারণ তাৎক্ষণিক লাভের এই কারবারটি একচেটিয়াভাবে করছে ক্ষমতাসীন দলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অথচ এ চাল সরবরাহ করার কথা মিল মালিকদের। কিন্তু নেতাকর্মীদের দাপটে মিলাররা চাল সরবরাহ করতে পারছেন না। আবার স্থানীয় বাজার থেকে কেনা এসব চাল মানসম্পন্নও নয়। অথচ সরকারি গুদামে ঢোকাতে হলে চালের আর্দ্রতা, ভাঙা চালের পরিমাণসহ বিভিন্ন নির্দেশনা মানতে হয়। রাজনৈতিক নেতারা সেই নির্দেশনা না মেনেই চাল নিতে বাধ্য করছেন স্থানীয় খাদ্য কর্তৃপক্ষকে। নিম্নমানের চাল গ্রহণ করতে আপত্তি করলেই জেলা-উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাদের ওপর নেমে আসছে নির্যাতন। কিল, ঘুষি থেকে শুরু করে খাদ্য কর্মকর্তাদের কর্মস্থল থেকে মেরে নিজের জেলায় পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ না হলে রক্তাক্ত ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা এসব ঘটনা ঘটালেও পরিস্থিতি জটিল হলে নেপথ্য থেকে বের হয়ে আসেন মন্ত্রী-এমপিরা। এ পর্যন্ত সাত জেলার ১১টি খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) মো. আলাউদ্দিনকে গত ২৮ জুলাই মেরে রক্তাক্ত করা হয়। আরো তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় শ্রমিক লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের আরো ১০ সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে আলাউদ্দিন বলেছেন, আনোয়ারের নেতৃত্বে  কিল-ঘুষি মেরে তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়। এ সময় গুদামের অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এ ছাড়া কারিগরি খাদ্য কর্মকর্তা শরিফা আক্তার শিমুকে গালাগাল করে খাদ্যগুদাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। খাদ্যগুদামে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তাঁদের সবাইকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
একই কারণে গত ৯ জুন হবিগঞ্জের খাদ্য পরিদর্শক আবদুল বারেককে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে তিনি থানায় জিডি করেন। এরপর তাঁকে আপসে যেতে বাধ্য করা হয়। গম কেনা নিয়ে গত ১৮ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার গাংনী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফুলজামাত আলীকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায়ও মামলা করলে আপসের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। গত ২ জুলাই জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পরে আপসে বাধ্য করা হয়েছে। গত ২৩ জুন পাবনা জেলার বড়ালব্রিজ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিতোষ কুমারকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ২৫ জুন পাবনা সদর উপজেলার খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলমকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। গত ২০ জুন নাটোর জেলার সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানকে গুলি করা হয়েছে। তিনি ভয়ে মামলা করতে যাননি। রাজশাহী জেলার পুড়িয়া খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই দিনে নওহাটা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান লাঞ্ছিত হন। গত ৬ মে রাজশাহী জেলার তানোর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইনুল হোসেনকে লাঞ্ছিত করা হয়। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ক্ষেতুর রোড খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমাজউদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করা হলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
খাদ্য পরিদর্শক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নিরাপদে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে চাই। কিন্তু যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে সেটা করতে পারছি না। খাদ্য পরিদর্শকসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করছেন। নির্দিষ্ট করে আসামির নাম দিয়ে মামলা করার পরও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। উল্টো মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। ইরি-বোরো ধান ও চাল এবং গম সংগ্রহের সময় ১১টি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এসব সন্ত্রাসী হামলায় ১৪ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তিনজন কর্মকর্তাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার বেশির ভাগই স্থানীয়ভাবে আপসরফা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। মামলা হলেও তা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি লায়েক আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মিলারদের মাধ্যমেই সরকারি গুদামে চাল দিচ্ছে। এই চাল সরবরাহে এক ধরনের অরাজকতা চলছে। এখানে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনার প্রতিবাদ করার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সংগঠন এক হয়ে একক সংগঠন ‘খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ গঠন করেছে। খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের ওপর এসব নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর খাদ্য অধিদপ্তরে বিক্ষোভ করেছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে রাজধানীর বিভিন্ন খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারাও যোগ দেন। বিক্ষোভ শেষে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়েজ আহমদকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে ময়মনসিংহে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘সর্বশেষ ০৭-০৮-২০১৫ তারিখে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য পরিদর্শক সমিতির নেতাদের ডেকে নিয়ে ধর্মমন্ত্রীর ভাই পরিচয় দানকারী দুই ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং শুক্রবারের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়; অন্যথায় বাদীসহ অন্য কর্মকর্তাদের ময়মনসিংহ থেকে মেরে বিতাড়িত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়েজ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে ইস্যুতে আন্দোলন করছে তা খাদ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আমি তাদের ধৈর্য ধরতে বলেছি।’
চলতি বোরো মৌসুমে খাদ্য অধিদপ্তর ১১ লাখ টন বোরো চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রতি কেজির দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা। গত ১ মে থেকে বোরো সংগ্রহ করছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। গত সোমবার পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৬৫ ভাগ বোরো চাল সংগ্রহ হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যে মানের চাল সংগ্রহ চলছে সেই মানের চালই বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা কেজি দরে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের গত ১১ আগস্টের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতির সারসংক্ষেপেও বলা হয়েছে, বাজারে মোটা চাল ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দরে চাল বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন জেলার ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বাজার থেকে এসব চাল কিনে সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করছে। ২৬ টাকায় এসব চাল কিনে গুদামে দেওয়া হচ্ছে ৩২ টাকা দরে। অনেক জেলা-উপজেলায় টিআর কর্মসূচির চাল আরো কম দামে কিনে এগুলো চড়া দামে সরকারি গুদামে সরবরাহ করা হচ্ছে। টিআর কর্মসূচির চাল সাধারণত ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ওই টাকা দিয়ে টিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

ঢাকায় ৩৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুরের শ্যামবাজার থেকে ৩৯ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর নাম মো. সাব্বির হোসেন। 
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে মুঠোফোনে পাঠানো খুদেবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বেলা ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ নিয়ে একটি ব্রিফিং করার কথা রয়েছে। সেখানে বিস্তারিত জানাবে পুলিশ।
খুদে বার্তায় জানানো হয়, শ্যামবাজারের ফরাশগঞ্জ থেকে সূত্রাপুর পুলিশ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার ও সাব্বিরকে আটক করে।

নৃশংস! বীভৎস!

আবারও বীভৎস ও নৃশংস ঘটনা ঘটল। এবারের ঘটনাস্থল মাদারীপুর। সেখানে দুই স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
দেশে কিছুদিন ধরেই শিশু নির্যাতন ও হত্যার একের পর এক ঘটনা ঘটছে। বর্বর নির্যাতন চালিয়ে একাধিক শিশুহত্যার ঘটনার পর এবার এই দুই কিশোরীকে হত্যা করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে একসঙ্গে দুই কিশোরীকে এভাবে হত্যার ঘটনা দেখা যায়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনার শিকার দুই ছাত্রী হলো সুমাইয়া আক্তার ও হ্যাপি আক্তার। তাদের বয়স মাত্র ১৪। দুজনই মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় শিপন শিকদার (১৮) ও রফিক শিকদার (২১) নামের দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিক্ষার্থীদের দুই পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সুমাইয়া ও হ্যাপি গতকাল বেলা তিনটার দিকে কোচিং করতে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে স্কুলের উদ্দেশে বের হয়। পরে বিকেল চারটা থেকে সোয়া চারটার মধ্যে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী চারজন যুবক তাদের অচেতন অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও কর্মচারীরা বলেছেন, সুমাইয়া ও হ্যাপিকে নিয়ে এসে চার যুবক প্রথমে জানান যে তারা বিষ খেয়েছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে হ্যাপি মারা গেলে ওই চার যুবক পালিয়ে যান। এরপর সেখানে শিপন শিকদার ও রফিক শিকদার নামে দুই যুবক উপস্থিত হলে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ওই দুজনকে আটক করে। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সুমাইয়া মারা যায়। এরপর দুই পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন।
সুমাইয়ার বাবা বিল্লাল শিকদার মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে চা বিক্রি করেন। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সুমাইয়া বড়। সুমাইয়ার বাবা জানান, আটক দুই যুবক সুমাইয়াকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মিন্টু শিকদারকে জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে।
একই অভিযোগ করে হ্যাপির মা মুক্তা বেগম বলেন, আটক হওয়া রফিক তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি তিনিও মিন্টু শিকদারকে জানিয়েছিলেন। তিন বোনের মধ্যে হ্যাপি বড়। তার বাবা হাবিব খান বাহরাইনপ্রবাসী।
সুমাইয়া ও হ্যাপির মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রাত আটটার পর হাসপাতালে উপস্থিত হন মিন্টু শিকদার। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দুই পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি শিপনের বাবা কুদ্দুস শিকদার ও রফিকের বাবা কামাল শিকদারকে এ বিষয়ে সতর্ক করেন। আর দুই মেয়ের অভিভাবকদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, সুমাইয়ার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন থাকলেও হ্যাপির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। আজ শুক্রবার লাশ দুটোর ময়নাতদন্ত হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে ধর্ষণের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কিশোরী দুটির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন মাদারীপুর সদর থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সুমাইয়ার গলা, হাত ও পায়ের আঙুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হ্যাপির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার পাল একই সময়ে প্রথম আলোকে জানান, ‘মেয়ে দুটি কীভাবে মারা গেল জানার জন্য আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যাঁরা মেয়ে দুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন, তাঁদের পরিচয় জানা গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, আটক দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁরা এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন।
সুমাইয়া ও হ্যাপিকে শান্তশিষ্ট স্বভাবের উল্লেখ করেন মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোরহান খান। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ জন্য স্কুলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাত সাড়ে আটটার পর মাদারীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের পাশে একটি কক্ষের মেঝের ওপর দুই কিশোরীর লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন তাদের স্কুলের শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা। স্বজনদের আহাজারিতে তাঁদের অনেকেই কান্না সামলে রাখতে পারেননি।
পৌনে নয়টার দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মোহাম্মদ জাকি সেখানে উপস্থিত হন। মধ্যরাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।

Wednesday, 12 August 2015

খুলনায় সিটি কাউন্সিলরের ছেলেকে গুলি করে হত্যা

খুলনা সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত আসন ২ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর সাহিদা বেগমের ছেলে নজরুল ইসলাম নজুকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নগরীর নতুন রাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দৌলতপুর থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, রাত পৌনে ১১টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা নতুন রাস্তার মোড়ে নজরুল ইসলামের গতি রোধ করে। পরে তার মাথায় লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নজু। প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি বলে জানান তিনি।

Monday, 10 August 2015

বিপুল শাড়িসহ ৩ কোটি টাকার অবৈধ কাপড় জব্দ

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ফেরিঘাট থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে আনা ভারতীয় শাড়ি, থ্রি পিসসহ থান কাপড় জব্দ করেছেন শুল্ক কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে এসব কাপড় জব্দ করা হয়।
জব্দ হওয়া এসব কাপড়ের মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।  
জব্দ হওয়া কাপড়ের মধ্যে রয়েছে ৪৯৩৫ পিস সিনথেটিক, ৬৯টি সুতি শাড়ি, ১৯৮টি থ্রি পিস এবং ২৭৬০ কেজি থান কাপড়। গোপন সংবাদেরভিত্তিতে সকালে মাওয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে এসব কাপড় জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি তারা।

Sunday, 9 August 2015

অবরোধে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ


খাগড়াছড়ি: মানিকছড়িতে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ চলছে।
সোমবার ভোর ৬টা থেকে সড়ক অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এ সড়কের যাত্রীরা।
উপজেলার গচ্ছাবিল এলাকায় গত ৫ আগস্ট ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি খামার বাড়ি ও মাদ্রারাসায় অগ্নিসংযোগ করার প্রতিবাদে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ ডাক দেয় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ। রোববার সন্ধ্যায় সংগঠনের খাগড়াছড়ি শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএম মাসুম রানা এ ঘোষণা দেন।
মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। অবরোধে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মাতৃগর্ভে গুলি: প্রধান আসামি ৭ দিনের রিমান্ডে


মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমন সেনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত

আজ রোববার মাগুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট- ফারাহ মামুনের আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমন সেনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানায় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় ছাত্রলীগের দুই দলে সংঘর্ষের সময় আবদুল মোমেন নামে একজন নিহত এবং অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হন। নাজমা তার মেয়ে সুরাইয়া এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।


Saturday, 8 August 2015

কেন দেশ ছাড়তে বলা?

শুক্রবার ঢাকায় নিজের বাসায় স্ত্রীর সামনেই খুন হয়েছেন যে নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় ওরফে নিলয় নীল, তাঁকে গত মে মাসে পুলিশ বলেছিল ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ছেড়ে চলে যান।’ নীলাদ্রিকে তাঁর বন্ধুরা মুক্তচিন্তার অধিকারী ব্লগার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর হত্যাকাণ্ডের যেসব বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট ধারণা মেলে যে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা না মানাই তাঁর জন্য কাল হয়েছে।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা কারণ সম্পর্কে কিছু না বললেও মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেছেন যে এর আগে অন্য ব্লগারদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, এ ক্ষেত্রেও হত্যাকাণ্ডের ধরন একই রকম। এটাও একধরনের পরোক্ষ স্বীকৃতি যে মত প্রকাশের (ব্লগে লেখা ও তা প্রকাশ) কারণেই তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে।
ইন্টারনেট সাধারণ নাগরিকদের যে ক্ষমতায়ন করেছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে, সেখানে তাঁর পরিচয় নিলয় নীল। তিনি ফেসবুকে মত প্রকাশের পাশাপাশি ইস্টিশন নামের একটি অনলাইন পোর্টালেও লেখালেখি করতেন। তাঁর ওই সব লেখার কোনো কোনোটিতে ধর্মের প্রচলিত রীতিনীতি ও বিশ্বাসের সমালোচনা ছিল। তিনিও জানতেন যে ধর্মবিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করায় ঝুঁকিটা অনেক বেশি। তাই তাঁর বিপদের কথা, আশঙ্কা-উদ্বেগ জানাতে গত ১৫ মে তিনি গিয়েছিলেন পুলিশের কাছে। কিন্তু পুলিশ তাঁকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ছেড়ে যাওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছে, সে কথাটি তিনি যেমন ফেসবুকে লিখেছিলেন, তেমনি জানিয়েছিলেন লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার সংবাদদাতাকে (গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে সংবাদদাতা তেমনটিই লিখেছেন)।
পুলিশের কথার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে পুলিশ যেমন রুষ্ট হয়, তেমনি ক্ষুব্ধ হন ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও রাজনীতিকেরা। কিন্তু আমরা তো অন্তত এ ক্ষেত্রে পুলিশের কথা বিশ্বাস করতে চাই না। পুলিশের ওই উপদেশের মানে দাঁড়ায়—মুক্তচিন্তার দেশ এটি নয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাইলে দেশ ছাড়ুন। পুলিশ নিশ্চয়ই তাদের অভিজ্ঞতা থেকে ওই উপদেশ দিয়েছে। কেননা, তাদের নিশ্চয়ই মনে পড়েছে যে এর আগে আরও চারজন ব্লগারকে তারা রক্ষা করতে পারেনি। জঙ্গি দমনে সাফল্যের দাবি যে অনেকাংশেই ফাঁপা, সেটা হয়তো তাঁরা কেউ কেউ আন্তরিকভাবেই উপলব্ধি করেন, যখন তাঁরা দেখেন যে ক্ষমতাসীনদের অনেকেই ভোটের হিসাব কষে ইসলামপন্থী রাজনীতি তোষণ করেন।
নীলাদ্রির আগে যেসব ব্লগার প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করা এবং মামলার বিচার নিশ্চিত করার ফুরসত কই পুলিশের? তাদের অগ্রাধিকার তো সরকারের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠছাড়া করা। গত পাঁচ মাসে আরেকজন নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বন্যা আহমেদ এবং পিতা অধ্যাপক অজয় রায় একাধিকবার সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তার দুই ধরনের জবাব এসেছে। একটি হচ্ছে গতানুগতিক, ‘অপরাধীদের ধরার জন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’ আর, অপরটি রাজনৈতিক এবং গূঢ় অর্থবাহী, ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সরকারকে এগোতে হচ্ছে।’
জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর দাবি যদি সঠিক হয়, তাহলে গত ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় হলেন ইসলামি জঙ্গিদের চতুর্থ শিকার। নীলাদ্রিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে যে জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল-ইসলাম, তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে ‘যদি তোমাদের “বাকস্বাধীনতা” কোনো সীমানা না মানতে প্রস্তুত থাকে তবে তোমাদের হৃদয় যেন আমাদের “চাপাতির স্বাধীনতার” জন্য উন্মুক্ত থাকে।’
বিদেশি প্রচারমাধ্যমগুলোতেও বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। বিবিসিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলতে থাকা প্রচারযুদ্ধের ওপর আলোকপাত করে বলা হয়েছে যে একদিকে ‘মুক্তমনা’ হিসেবে পরিচয়দানকারীরা দাবি করছেন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে না পারার মানে দাঁড়াবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিসর্জন। আর অন্যদিকে, জঙ্গি মতাদর্শের অনুসারী নন, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাসে আস্থাশীলদের কেউ কেউ বলছেন যে দেশে প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনীতিকদের সমালোচনা ও তাঁদের নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্য মানুষকে জেল খাটতে হয়, সে দেশে এটি কোন ধরনের স্বাধীনতা যে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাতকে মেনে নিতে হবে?
বিবিসি রেডিওর ট্রেন্ডিং নামের একটি অনুষ্ঠানে একজন ব্লগার বলেছেন যে দেশটি এখন একটি ‘খোলা জেলখানা’ (ওপেন প্রিজন), সেখানে তিনি এখন মত প্রকাশের সময় নিজেই নিজেকে সংবরণ (সেন্সর) করেন। তবে ওই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দাবি করেছেন যে দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা অহরহই চলছে।
সরকার-সমর্থক সম্পাদক-উপদেষ্টা-সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারাও অনেক দিন ধরেই তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গলা মিলিয়ে চলেন। কিন্তু ব্লগারদের মৃত্যু কিংবা রাজনীতিকদের সমালোচনা বা ব্যঙ্গ করার জন্য মামলা বা কারাদণ্ডের পরিসংখ্যানগুলো বলে ভিন্ন কথা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে তথ্যপ্রযুক্তি আইন বা আইসিটির আওতায় রাজনীতিকদের প্রতি কটাক্ষ করার জন্য এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে প্রায় তিন ডজন। মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বিশ্বব্যাপী কাজ করছে এমন দুটি প্রতিষ্ঠান—কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস উভয়ের ওয়েবসাইট দুটোতে গেলেই যে কেউ দেখতে পারেন যে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন কী। সিপিজে একটি বৈশ্বিক মানচিত্রে হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে রেখেছে, যেখানে ১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। আর রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসে এ বছরে বিশ্বে আটজন নেটিজেনের (ইন্টারনেটের নাগরিক-সাংবাদিক) প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে। সেখানে নীলাদ্রিকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের তিনজনের কথা বলা আছে। নীলাদ্রি যুক্ত হলে আমরা সিরিয়াকে ছুঁয়ে ফেলব।
কারও অভিমত বা বিশ্লেষণ সবার পছন্দ হবে কিংবা সেগুলো অন্যদের গ্রহণ করতে হবে—এমন কথা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কেউই বলতে পারেন না। কারও মতামত আপত্তিকর হলে তাঁকে হত্যা করা ঠিক বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁরা সম্ভবত ‘তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্য এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্য’ (আয়াত ৬, সূরা কাফিরুন) কথাটির মর্মার্থ বুঝতে অক্ষম।
রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার কথাটাও এ ক্ষেত্রে আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না। দ্বিদলীয় ধারার যে রাজনীতি দেশে কয়েক দশক ধরে চলে আসছিল, সেটিও আমরা সুস্থভাবে চলতে দিইনি। ভিন্নমতাবলম্বীদের আমাদের মন্ত্রীরা প্রায়ই অন্য দেশে পাঠিয়ে দিতে চান। রাজনীতিতে ভিন্নমতের কোনো জায়গা না থাকলে দমবন্ধ হওয়া পরিবেশে অগণতান্ত্রিক শক্তির কালো হাত আরও শাণিত হবে এবং ছোবল মারবেই। আর পুলিশ না হলেও অন্য কেউ ওই পরামর্শই দেবে যে মুক্তচিন্তার দেশ এটি নয়, মুক্তচিন্তা করতে হলে দেশ ছাড়তে হবে।

বাস থামিয়ে ব্যবসায়ী হত্যা : ৯ জন গ্রেপ্তার, গুলি অস্ত্র উদ্ধার


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় চলন্ত বাস থামিয়ে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ১০ রাউন্ড গুলি গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য জানানো হয়
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ফারুক, বাবু, হাবিবুর রহমান স্বপন, লিটন, আনোয়ার হোসেন, মিজান, আনোয়ার ইসলাম শাকিল, শামীম হোসেন শাহিল আহমেদ। গত শুক্রবার পুলিশের অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার . খন্দকার মহিদউদ্দিন জানান, ঢাকা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা পেশাদার ছিনতাইকারী অস্ত্রবাজ। এরা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য জানতে রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ সুপার . খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, 'নুরুল ইসলামকে হত্যার পেছনে ছিল একটি ব্যাগ। ওই ব্যাগে মূল্যবান কোনো জিনিস ছিল। তবে কী ছিল বা কী পরিমাণ মূল্যবান জিনিস ছিল তা জানতে পারিনি। এর জন্য সময় লাগবে।'
গত আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকায় নারায়ণগঞ্জগামী উত্সব পরিবহনের বাস থামিয়ে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ নিহতের দুই সহযাত্রী সাইফ লিটন এবং উত্সব পরিবহনের চালক হেলপারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় চলন্ত বাস থামিয়ে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও ১০ রাউন্ড গুলি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ফারুক, বাবু, হাবিবুর রহমান স্বপন, লিটন, আনোয়ার হোসেন, মিজান, আনোয়ার ইসলাম শাকিল, শামীম হোসেন ও শাহিল আহমেদ। গত শুক্রবার পুলিশের অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন জানান, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা পেশাদার ছিনতাইকারী ও অস্ত্রবাজ। এরা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য জানতে রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, 'নুরুল ইসলামকে হত্যার পেছনে ছিল একটি ব্যাগ। ওই ব্যাগে মূল্যবান কোনো জিনিস ছিল। তবে কী ছিল বা কী পরিমাণ মূল্যবান জিনিস ছিল তা জানতে পারিনি। এর জন্য সময় লাগবে।'
গত ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকায় নারায়ণগঞ্জগামী উত্সব পরিবহনের বাস থামিয়ে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ নিহতের দুই সহযাত্রী সাইফ ও লিটন এবং উত্সব পরিবহনের চালক ও হেলপারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2015/08/09/254230#sthash.wMAlxbWf.dpuf