Showing posts with label রাজনৈতিক. Show all posts
Showing posts with label রাজনৈতিক. Show all posts

Thursday, 13 August 2015

খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর স্থগিত!

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার  লন্ডন সফর কার্যক্রমের সম্পৃক্ত ও  উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি শুনেছি, বোধ হয় স্থগিত। আপনি নিশ্চিত হতে চাইলে, মারুফ কামালকে ফোন করুন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৬ টা ২ মিনিটের সময়  বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এমন তথ্য জানান।
বিষয়টি জানতে খালেদা জিয়ার প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খানকে ফোন করা হলে তাকে
পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ জন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমি তো জানতে পারলাম, তার সফরের ভিসা, বিমানের টিকিট সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে আছে। তা হলে কেন স্থগিত হবে?
তবে এ প্রসঙ্গে গুলশান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এটা তো এখনই বলার সময় নয়। প্রেসকে জানানো হবে বিস্তারিত। ঠিক কী কারণে সেটি হয়েছে, এ বিষয়েও তিনি বলেন, এ সব জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, বিএনপি থেকে ইতোমধ্যে বলা হয়েছিল, চোখের  চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাতে এমিরেটস এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন খালেদা জিয়া। এ জন্য গত মঙ্গলবার তিনি ভিসা সেন্টারে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ যাবতীয় প্রক্রিয়াও শেষ করেন। এর আগে গতকাল বুধবার ভিসাসহ সফরের যাবতীয় প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এর আগে রমজান মাসে সৌদি আরবে ওমরার জন্য প্রস্তুতি নিয়েও হুট করে সফর বাতিল করেন খালেদা জিয়া।

সব দল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার হতে পারে

আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন রূপরেখা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। দশম সংসদে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদদের বৈধতার বিষয়ে এক মামলায় আদালত একটি পর্যবেক্ষণে এই রূপরেখা দেন। এতে নির্বাচনকালে প্রধানমন্ত্রীসহ যেকোনো মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নাকচ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়ার পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন আদালত।
২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ার পরে উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এই প্রথম দুটি নির্দিষ্ট রূপকল্প পাওয়া গেল। আদালতের রায়ের এই পর্যবেক্ষণের বিষয়ে রাজনীতিবিদ এবং আইন বিশেষজ্ঞরা অনেকেই সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
আর কেউ কেউ তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে চাননি। যাঁরা সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তাঁরা বলছেন যে এই পর্যবেক্ষণ এ কথাই প্রমাণ করে যে দেশে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে এবং এর সমাধান প্রয়োজন।
২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট হয়েছিল। ২০১৪ সালের ১৯ জুন ওই দুটি রিট খারিজ করে দেন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ। সম্প্রতি তার পূর্ণাঙ্গ রায় বেরিয়েছে। এই মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, রফিক-উল হক, মাহমুদুল ইসলাম, রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও বদিউল আলম মজুমদার।
‘খন্দকার আবদুস সালাম বনাম বাংলাদেশ’ এবং ‘শাহরিয়ার মজিদ বনাম বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুটি রিট নিষ্পত্তি করে আগামী নির্বাচন কীভাবে হতে পারে সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ প্রদানকে আদালত তাঁদের ভাষায় ‘অন্তর্গতভাবে প্রাসঙ্গিক’ বিবেচনা করেছেন। তবে আইনজ্ঞদের অনেকেই এ ধরনের পর্যবেক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, রিট আবেদনটি হয়েছিল ১৫৩ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বৈধতার প্রশ্নে। হাইকোর্ট বলে দিয়েছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তবে তিনি বলেন, দেশে যে রাজনৈতিক সংকট আছে এবং তার যে সমাধান প্রয়োজন, সেটি উচ্চ আদালতও অনুভব করছেন। যদিও তিনি মনে করেন, এটি নির্বাহী বিভাগের বিষয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে একটি ঝামেলা যে রয়েই গেছে তার প্রমাণ বিচার বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময়ে আদেশ নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ দেওয়া। তিনি মনে করেন, হাইকোর্ট তাঁর মত দিয়েছেন, এটি যে পালন করতেই হবে তা নয়।
হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁদের রায়ে প্রথম রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা যেতে পারে। সংসদের মেয়াদ পুরো হলে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে সংসদ ভেঙে যাওয়ার দিন থেকে ৯০ দিনের জন্য সব দল থেকে ৫০ জন নতুন মন্ত্রী নেওয়া হবে। বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে মন্ত্রীর সংখ্যা ঠিক হবে।
রায়ে আরও বলা হয়, ‘উদাহরণস্বরূপ, বর্তমান সংসদ বয়কট করার কারণে বিএনপি ও জামায়াত একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী সরকারে কোনো মন্ত্রী দিতে পারবে না। জাতীয় পার্টি গত নির্বাচনে ৭ ভাগ ভোট পেয়েছে, সেই অনুপাতে তারা মন্ত্রিত্ব পাবে। কিন্তু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদের আওতায় বয়কটকারী দলগুলো সর্বোচ্চ পাঁচজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী দিতে পারবে। সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দপ্তর লটারির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনকে প্রধানমন্ত্রীসহ যেকোনো মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘জোরালো কারণ’ দেখিয়ে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নাকচ করার ক্ষমতা দিতে হবে।
দ্বিতীয় রূপরেখা হিসেবে বলা হয়, কোনো নির্বাচনে বিজয়ী দল প্রথম চার বছর দেশ শাসন করবে। এরপর প্রধান বিরোধী দল শেষ এক বছর দেশ চালাবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রাপ্ত মোট ভোটের অন্তত অর্ধেক সমান ভোট প্রধান বিরোধী দলকে পেতে হবে। কোনো নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল তা না পেলে তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পাঁচ বছরের দেশ শাসনের ম্যান্ডেট মেনে নিতে হবে। তবে নির্বাচনকালে প্রথম রূপকল্পমতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রথম বিকল্প সংবিধান সংশোধন ছাড়াই চলবে। কিন্তু দ্বিতীয় বিকল্পের জন্য সংবিধান সংশোধন লাগতে পারে। কারণ, এক বছরের জন্য যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়।
রায়ে বলা হয় যে আমাদের সাংবিধানিক স্কিমে ভোট প্রদানের অধিকার সরাসরি সাংবিধানিক অধিকার বলে প্রতীয়মান হয় না। নির্বাচন ও ভোট-সংক্রান্ত ১২২ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয় যে এই বিধানগুলো একজন নাগরিকের ওপর ভোট প্রদানের বিষয়টিকে কোনো কর্তব্য হিসেবে চাপিয়ে দেয় না। বরং ভোট দেওয়া না দেওয়া নাগরিকের স্বেচ্ছাধীন রাখা হয়েছে।
রায়ে বলা হয় যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারার আওতায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ দশম সংসদ নির্বাচনে কোনো ভোটকেন্দ্র, পোলিং এজেন্ট বা ভোটারদের উপস্থিতির প্রশ্ন ছিল না। সুতরাং আরপিওর ১৯ ধারা সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে না। এতে বলা হয়, আমাদের আইনি গণ্ডিতে একটি ‘প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনুষ্ঠিত হতে পারে। আরপিওর ১৯ ধারা না থাকলে একটি অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ হতে পারত উল্লেখ করে রায়ে বলা হয় যে এর ফলে পুরো ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়তে পারত।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়, এই মামলায় ৩০০ আসনের নয়, ১৫৩ আসনের এমপি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবেদনকারী ও তিন অ্যামিকাস কিউরি (কামাল হোসেন, রফিক-উল হক, বদিউল আলম মজুমদার) বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। ভোট কারচুপি ও সহিংসতা ঘটেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ১৫৩ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি বেআইনি নয় বলা হলেও নীতির প্রশ্নে, রুচির প্রশ্নে ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে এটি চরম প্রশ্নবিদ্ধ। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিবিরোধী ওই নির্বাচন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরাই প্রশ্ন তুলতে পারতেন। বিরোধীরা কেন, অনির্বাচিত সাংসদেরাই যদি এই প্রশ্ন তুলতেন তাহলে তাঁদের আত্মসম্মানবোধের দৃঢ় পরিচয় পাওয়া যেত।
রায়ে বলা হয়, যারা নির্বাচন বয়কট করেছে তাদের উচিত ছিল নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের দাবিকে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) নির্বাচনী ইশতেহারের এক নম্বর দফায় অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু তারা নির্বাচনে না এসে বরং তা প্রতিহত করতে সচেষ্ট হয়েছে। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতাল দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সরকারের পদত্যাগ চেয়ে তারা একটি উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নিয়ে সংঘাতমূলক রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে। তারা অকল্পনীয় ধ্বংসযজ্ঞ করেছে। অনেক গাছ কেটেছে, মসজিদ ও বাজার ধ্বংস করেছে এবং পবিত্র কোরআন ও অন্যান্য বই পুড়িয়েছে। বাসে যাত্রীদের হত্যা করেছে।
হাইকোর্টের এ রায়ে ব্যালটে না ভোট প্রথা চালুর পক্ষে অভিমত দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা বিষয়ে হাইকোর্টের দুটি ফর্মুলা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ বলেছেন, এই পর্যবেক্ষণের আইনগত ভিত্তি নেই। তাই এটি গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতাও নেই।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। তাতেই বলা আছে, কার কী কাজ এবং নির্বাহী বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে। এর বাইরে কেউ কোনো মত বা পর্যবেক্ষণ দিলেও তা গ্রহণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
শাহদীন মালিক বলেন, সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে যেমন বিভিন্ন মত দেওয়া হয়, এটি তেমনই একটি মত বা পর্যবেক্ষণ বলে মনে হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে চান না। এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।

Tuesday, 11 August 2015

খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা: অাসছে বিএনপির সুখবর

অাগামী কয়েকদিনের মধ্যে লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ যাত্রায় তিনি ‘চোখের চিকিৎসা এবং তারেক রহমান ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংস্থার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
তবে বিএনপির একাধিক ও সরকারের প্রভাবশালী দুটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের দাবি, ‘খালেদা জিয়ার এ সফর মূলত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অালোচনা এবং বিএনপির পরবর্তী করণীয় ও নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ এ দুটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরের ৩ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে হঠাৎ করেই একসঙ্গে ৯টি প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূতরা সাক্ষাৎ করেছিলেন। ওই সাক্ষাৎ ছিল প্রায় ২ ঘণ্টার। তখন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে শোরগোল জোরালো ছিল। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ মার্চ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাটের নেতৃত্বে রাষ্ট্রদূতদের ওই বৈঠকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবনা এবং তাদের শর্ত নিয়ে অালোচনা হয়।’ ওই বৈঠক শেষে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তারা দুপক্ষকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অাওতাধীন প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে অালোচনা হয়। প্রস্তাবগুলো ছিল- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে পরবর্তী নির্বাচনে মত দেওয়া, ৫ জানুয়ারি থেকে চলমান বিরামহীন অবরোধ-অান্দোলন থেকে সরে অাসা এবং জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করা। এ প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া অান্দোলন থেকে সরেও অাসেন।
গোয়েন্দা সংস্থাটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অাসার জন্য খালেদা জিয়া লন্ডন যাচ্ছেন। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে অালাপ করবেন পাশাপাশি তার দেশে ফেরার বিষয়েও মা-ছেলে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদিও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চোখের চিকিৎসা এবং ছেলে-পরিবার-সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই বিদেশ যাচ্ছেন খালেদা জিয়া।
এদিকে সফর নিয়ে দলের দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. অাসাদুজ্জামান রিপন গত সোমবার বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বৈঠকও করতে পারেন।
তবে বিএনপি ও গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, অাসলে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের মধ্য দিয়ে পরবর্তী ক্ষমতায়নের প্রশ্নে সরকার ও অান্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি সবুজ সংকেত পেয়েছে বিএনপি ।
বৃহস্পতিবার ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন খালেদা
অাগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যেই দিল্লি থেকে খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্যের ভিসা চূড়ান্ত হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক এমাজউদ্দীন অাহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কালই তো (বুধবার) লন্ডনের পথে রওয়ানা হওয়ার কথা। তবে কাল রাতে যেহেতু জোটের বৈঠক, সেহেতু একটু পরিবর্তন হবে।
লন্ডনে রওয়ানা হওয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শামসুর রাহমান শিমুল বিশ্বাস মঙ্গলবার বিকালে জানান, সময় চূড়ান্ত হলে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে।
তবে যাত্রার সঠিক সময় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবীর খান। তিনি বলেন, ম্যাডাম লন্ডনে যাচ্ছেন, এটি চূড়ান্ত। দু-এক দিনের মধ্যেই ঢাকা ত্যাগ করবেন। তবে সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত নয়।
খালেদা জিয়ার উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইনাম অাহমেদ চৌধুরী জানান, ‘দিল্লি থেকে দুপুর ১২টার মধ্যেই ভিসা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। হয়তো এর মধ্যে এলে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।’ তবে এ সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের বাইরে বিএনপির কোনও নেতা সঙ্গী হবেন না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।  
বিএনপির সুখবর অাসছে লন্ডন থেকে!
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, ইতোমধ্যেই বিএনপির কাছে সরকারের প্রস্তাব গেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া, জামায়াত সঙ্গ ত্যাগ করা এবং ক্ষমতার পরবর্তী সময়ে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার হতে চাওয়া হয়েছে। ওই প্রস্তাবগুলো এ বছরের ৩ মার্চ রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকেই দেওয়া হয়েছিল। যদিও এ নিয়ে কোনও পক্ষই কিছু বলেনি।
সূত্রের দাবি, দৃশ্যত ২০১৯ সালের অাগে নির্বাচন হবে না বললেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভেতরে ভেতরে রাজি এ সরকার । কারণ হিসেবে গোয়েন্দাসূত্র মনে করে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা ইতোমধ্যে উপলব্ধি করেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর কোনও অবস্থাতেই ২০১৯ সালের বেশি ক্ষমতায় থাকা যাবে না। অার ওই সময় পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখলে এর পরের সময়টা নিয়েও সরকারে সম-পরিমাণ দুশ্চিন্তা অাছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে অামেরিকা, ইইউসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ সরকারের শাসনতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে অখুশি। সর্বশেষ এর প্রভাবে জিএসপি সুবিধা বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ড. অাসাদুজ্জামান রিপন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্ম্পকের তিক্ততার কারণে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। কেন তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সর্ম্পকের তিক্ততা হল তা সরকারের কাছে জানতে চায় জনগণ । যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের দাবি ও পরামর্শের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাজে মন্তব্য করেছে এ সরকার ।
এ নিয়ে অাওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে অবস্থান নমনীয় থাকলেও অাদতে সেরকম কোনও প্রস্তাবনা বিএনপির কাছে গেছে কি না, এটার সত্যতা নেই। 
তবে গোয়েন্দা সংস্থাটির সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য, সমুদ্রের তেল-গ্যাস উত্তোলনসহ নানা বিষয়ে ওই দেশের সঙ্গে কথা হতে পারে। এসব বিষয়ে নিশ্চয়ই ইতিবাচক অাচরণ দেখাবেন খালেদা জিয়া।
এ বক্তব্যের যুক্তি হিসেবে সূত্রের দাবি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার সভা-সমাবেশে বলেছেন, ২০০১ সালে খালেদা জিয়া বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।
ঘটনাটি ২০০১ সালের। ওই বছর লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এক দাওয়াতে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রয়াত জিল্লুর রহমান গিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া ও মান্নায় ভূইয়া ছিলেন। সেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও উপস্থিত ছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এবারও সেরকম কিছু ঘটার সমূহ সম্ভাবনা অাছে।
তবে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন অাহমদ এ বিষয়টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ম্যাডাম লন্ডনে যাচ্ছেন কার কাছে মুচলেকা দিতে? কে নেবে তার মুচলেকা। এটা সত্যি নয়।
তিনি অারও বলেন, ম্যাডাম যাচ্ছেন চোখের চিকিৎসা করাতে। দীর্ঘদিন নিজের সন্তানকে দেখেন না। তিনিও তো একজন মা। ইতোমধ্যে ছোট ছেলেকে হারিয়েছেন। এখন কি তার বড় ছেলেকে দেখার ইচ্ছে তার হতে পারে না।
বিএনপির একাধিক সূত্রমতে, পরবর্তী নির্বাচনে জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখার বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে অালোচনা হবে। ‘যদিও জামায়াতকে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপির সায় নাই’-এমন অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
গোয়েন্দাসূত্রটি মনে করে, সরকারের অাশঙ্কা প্রবল যে, বিএনপি কোনওভাবেই জামায়াতকে ছাড়তে চাইবে না। এ কারণে অাইনগতভাবে দলটিকে নিষিদ্ধ করলেও রাতারাতি নতুন নামে অাত্মপ্রকাশ করবে জামায়াত। এ নিয়ে সরকারে দুশ্চিন্তা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে জামায়াতের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে সরকার।
সূত্রটির দাবি, সরকার চাইছে বিএনপিতে যেকোনও উপায়ে জামায়াতবিরোধী অংশটিকে আরও শক্তিশালী করতে। অন্যথা বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ক্ষমতার অংশীদার হলে সেটি অাওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর জন্য নেতিবাচক ফলাফল বয়ে অানতে পারে। এ লক্ষ্যে যেকোনও উপায়ে বিএনপির কাছ থেকে বিশ্বাসযোগ্য অাশ্বাস চায় অাওয়ামী লীগ।
জানা গেছে, এই অাশ্বাসের বিষয়ে অাগামী দিনের বিএনপির রাজনৈতিক কর্মপন্থা কী হবে তা নিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারী তারেক রহমানের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাচ্ছেন খালেদা জিয়া। এ লক্ষ্যে মূলত তার লন্ডন সফর।
তবে খালেদা জিয়ার বিশ্বাসভাজন ও দলটির বর্তমান অন্যতম প্রধান পরামর্শদাতা অধ্যাপক এমাজউদ্দীন অাহমদ মনে করেন, সরকার বাধ্য হচ্ছে একটি নির্বাচন দিতে। এটা পরিস্থিতির কারণে। এভাবে তো দেশ চলতে পারে না। অাসন্ন নির্বাচন নিয়ে মূলত দুই দল বসে নির্বাচন কমিশন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কোনও অবস্থাতেই বর্তমান ইসিকে দিয়ে নির্বাচন হবে না। এটিই থাকবে, অামাদের প্রথম ও প্রধান শর্ত।
এমাজউদ্দীন অারও বলেন, সরকার তো চায় ৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে, সেটি তো হবে না। নির্বাচন তাদের দিতে হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও হবে না। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এজন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে হবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার জন্য। সরকার তো রাজি হবে না, রাজি করাতে হবে।
জানা গেছে, গত সোমবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে অামেরিকায় গেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীর। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল লন্ডনে যেতে পারেন। তবে এমন সম্ভাবনার কথা বিএনপি নেতা ইনাম অাহমেদ চৌধুরী উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, বৈঠক বা অালোচনা করতে হলে তো প্রযুক্তিই যথেষ্ট। দেখা করার তো দরকার নাই। তবে শেষ পর্যন্ত তো বলা যায় না। অাজকাল অামেরিকা থেকে লন্ডন যেতে অার কতইবা সময় লাগে।
খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরে রাজনৈতিক তাৎপর্য অাছে কি না এমন প্রশ্নে ইনাম অাহমেদ বলেন, রাজনৈতিক তাৎপর্য কেন থাকবে না। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী একটি দেশে গেলে তো সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দেখা হবেই। বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো হয়তো সে অায়োজন করে না, এটা হয়তো ব্যক্তি উদ্যোগেই হবে।

বরিশালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা

বরিশাল: বরিশালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থানীয় ৭ নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা নালিশী মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল সদর সিনিয়র জজ আদালতে বিচারক এইচ এম কবির হোসেন মামলাটি খারিজ করে দেন।
বরিশাল আদালতের বেঞ্চ সহকারী দ্বীন মোহাম্মদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার দুপুরে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিনের উৎসব পালন না করার প্রতিকার চেয়ে বরিশালে খালেদা জিয়া ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জেলা-মহানগরের ৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি করেন বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত অস্থায়ী কর্ম পরিষদের সহ-সভাপতি মঈন তুষার।
মামলার বিবাদীরা হলেন, বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি, বিএনপি চেয়ারপাসন ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয়দের সরে যেতে বলেছে বিএনপি


ব্যর্থ নিষ্ক্রিয়দের দলীয় পদ দায়িত্বথেকে সরে যেতে বলেছে বিএনপি ব্যর্থরা নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে যোগ্য সাহসীদের নেতৃত্বে আসা নিশ্চিত করতেনিবেদিত সংগ্রামী নেতা-কর্মীদের দায়িত্বনিতে বলেছে দলটি
সম্প্রতি এক চিঠিতে দলের মাঠপর্যায়ে এমন নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিএনপি চিঠিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা পৌর এলাকায় প্রতিনিধিদের সম্মেলনের মাধ্যমে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলা হয় সময়ের মধ্যে কমিটি করতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি করে দেওয়া হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়
জেলা মহানগর কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের কাছে আগস্ট তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠিটি পাঠানো হয় তবে গতকাল যোগাযোগ করা হলে একাধিক জেলা থেকে জানানো হয়েছে যে তাঁরা এখনো চিঠি পাননি আবার কয়েকটি জেলার নেতারা বলেছেন, তাঁরা চিঠি পেয়েছেন
জানতে চাইলে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গত রাতে প্রথম আলোকে জানান, তিনি এখনো চিঠি পাননি তবে ধরনের একটি চিঠির কথা শুনেছেন
আর চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে মাগুরা জেলা বিএনপির সভাপতি কবির মুরাদ বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাঁরা কমিটি পুনর্গঠন করবেন সর্বশেষ ২০০৯ সালে মাগুরা জেলা বিএনপির কমিটি হয় ১০১ সদস্যের কমিটির মধ্যে দু-চারজন নিষ্ক্রিয় আছেন বলে জানান তিনি কবির মুরাদ বলেন, যেখানে রাস্তায় নামলেই গুলি, গ্রেপ্তার, বাসায় তল্লাশি; সেখানে কে নিষ্ক্রিয় তা নির্ণয় করাটা মুশকিল
যোগ্য সাহসী নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি’—এমন মন্তব্য করে চিঠিতে বলা হয়, ‘যাঁরা দল, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদ দায়িত্বে থেকে যেকোনো কারণেই ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের নিজেদেরই পদ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে যোগ্যতর ব্যক্তিদের দলের পদ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা উচিত তাঁরা এই সংগত কাজটি করতে না চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা পৌর এলাকার সচেতন, নিবেদিত সংগ্রামী নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব হবে দলের স্বার্থেই তাঁদের পরিবর্তে যোগ্যতর, সাহসী নেতা-কর্মীরা যাতে দলের পদ দায়িত্ব পান, তা নিশ্চিত করা

তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এই চিঠিকে ব্যাখ্যা করেছেন দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার শুরু হিসেবে তাঁরা বলেন, জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া এবং চলতি বছরের শুরুতে টানা তিন মাসের নিষ্ফল আন্দোলনের পর দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠের নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হলো চিঠিতেগত জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচিপালন করতে গিয়ে হতাহত হামলা-মামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি জানানো হয় পাশাপাশি বিএনপি বা কোনো অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে না থেকেও আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালনকারী নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়
দলকে অধিকতর সংগঠিত সক্রিয় করা প্রসঙ্গেশিরোনামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান ওই চিঠি পাঠান

চিঠিতে বলা হয়, ‘আন্দোলনে অনেক নেতা-কর্মীর দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অক্ষমতা, অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতাও লক্ষ করেছি ভয়ভীতি, ব্যক্তিস্বার্থ, আপসকামিতা আন্দোলন-সংগ্রামকে দুর্বল ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাঁদের এসব কর্মকাণ্ড তৎপরতা সাংগঠনিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত
এই চিঠি দলে রেষারেষি বাড়াবে কি না, জানতে চাইলে মো. শাহজাহান গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এর তো কোনো কারণ দেখি না বরং এতে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো চিঠির মূল বক্তব্যই হলো, যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাঁরা যেন অগ্রাধিকার পান
চিঠিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত অনেক পদধারী নেতার দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, অযোগ্যতা অনিচ্ছার পাশাপাশি ভয়ভীতি আপসকামিতার উল্লেখ করা হয় যাঁদের অনেকে দায়িত্ব পালন না করেও পদ নেতৃত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠনে বাধা সৃষ্টি করছেন, যোগ্য নতুন নেতা-কর্মীদের দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন, এমনকি বিগত আন্দোলনে দলীয় কর্মসূচি পালনে নিবেদিত নেতা-কর্মীদের নিরুৎসাহিত করেছেন, তাঁদের প্রতি চিঠিতে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করা হয়
চিঠিতে বলা হয়, যাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণিত, তাঁদের দলের কোনো সক্রিয় পদে কিংবা দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই এসব ব্যক্তির জন্যই মূলত দল দলীয় কর্মসূচির প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন থাকার পরও আন্দোলনের তীব্রতা ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়েছে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাশাপাশি যাঁরা ভয়ভীতি, ব্যক্তিস্বার্থ লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে দলের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম, দলের জন্য সময় দিতে পারবেন, নেতা-কর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকবেন এবং সাহসিকতা কৌশলের সঙ্গে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সামনে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, তেমন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দলের সব পর্যায়ের নেতৃত্বে আনতে হবেএমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে
কমিটি গঠনের সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সাংসদসহ দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে একই সঙ্গে অনিবার্য কারণে দায়িত্ব পালনে সক্ষম নন, এমন প্রবীণ যোগ্য নেতাদের দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতে সব পর্যায়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে উপদেষ্টারা সহসভাপতির মর্যাদা ভোগ করবেন তাঁদের মর্যাদা, গুরুত্ব ক্ষমতা দলীয় গঠনতন্ত্রে সংযুক্ত করা হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়
দলীয় সূত্র জানায়, লন্ডন সফরের আগে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এটি প্রাথমিক পদক্ষেপ লন্ডন থেকে ফিরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনে হাত দেবেন তিনি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাঁর লন্ডন সফরের সময় দলের তিন নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, নজরুল ইসলাম খান যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন কারণ দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন