Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts

Wednesday, 12 August 2015

ইন্টারনেট অাসলে কার হাতে, কে কমাবে দাম?

'২০ টাকায় ১ জিবি ইন্টারনেট চাই', '৫০ টাকায় ১ জিবি ইন্টারনেট চাই', 'ঢাকার দামে অামার গ্রামে ইন্টারনেট চাই' বলে প্রযুক্তিপ্রেমীরা যখন গলা ফাটাচ্ছে ঠিক সেসময় মোবাইলফোন অপারেটরদের শীর্ষ কর্তাদের কাছে ‌‌‌ডেকেও ইন্টারনেটের দাম কমানোর ব্যাপারে কিছুই বললেন না তিনি।
প্রয়োজনীয় অনেক কথায়ই বললেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম কিন্তু বললেন না কেবল ইন্টারনেটের দাম কমানোর কথা। আগামী বৈঠকে অবশ্যই তিনি এ বিষয়ে অপারেটরদের বলবেন বলে অাশ্বস্ত করলেন।
আমরাও আশাবাদী হতে চাই, তিনি এ বিষয়ে অগ্রগামী হবেন, ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করবেন।
গত রবিবার সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে তারানা হালিমের সঙ্গে দেশের মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর প্রধান নির্বাহীরা (সিইও) সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি তাদের কলড্রপ বন্ধ, দ্রুত এমএনপি চালু, প্যাকেজ একসেপ্ট না করলে কোনও টাকা কর্তন নয়-সহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন। কিন্তু ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়ে কিছুই বলেন না। যদিও তিনি পরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অবশ্যই তিনি বিষয়টির প্রতি জোর দেবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় বৈঠকে ইন্টানেটের দাম মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে টেলিযোগাযোগ খাতের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেন। অন্যদিকে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অাইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ অাহমেদ পলক বলেছেন, 'গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।'
কিন্তু টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিঅারসির গলায় বাজছে ভিন্ন সুর। কমিশনের মত, 'দাম কমেছে, ধাপে ধাপে দাম অারও কমিয়ে আনা হবে।' কবে এবং কত দিনে সেসবের কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের কথা হলো, 'দাম বেঁধে দিয়ে নয় বরং অপারেটরগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে আনা হবে।'
অথচ এই বিটিঅারসিই ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণে কাজ করছে। ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ে দাম বেঁধে দিতে 'কস্ট মডেলিং' -এর পথে অগ্রসর হয়েছে সংস্থাটি। ইন্টারনেটের দাম বেঁধে দেওয়ার ব্যাপারটি ঝুলে অাছে 'একজন সিনিয়র পরামর্শক নিয়োগ' না হওয়ায়। ফলে যুগোপযোগী 'টেলিকম ইকোনমিকস অ্যান্ড কস্ট মডেলিং' সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিটিআরসি ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর একজন সিনিয়র পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠায়। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে একটি তাগাদা পত্রও পাঠায়। অন্যদিকে ১১ মার্চ বিটিআরসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রস্তাবিত পরামর্শকের বেতন-ভাতার পরিমাণ, অর্থপ্রদানের খাত, অনুমোদিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট খাতে অর্থের সংস্থান আছে কি না- ইত্যাদি তথ্যাদি জানতে চেয়ে ‌‌‌চিঠি দিলে কমিশনে ১৯ মার্চ তার উত্তর পাঠায় কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও অনুমোদন না আসায় বিটিআরসি নিয়োগের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না।
তাহলে কোনটি সত্যি। কমিশনের চেয়ারম্যানের কথা না কি সরকারের ইন্টারনেটের দাম বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগের কথা।
বিটিঅারসি বলছে, গত ৭ বছরে ব্যান্ডউইথের দাম কমেছে ৯০ শতাংশ এবং সংস্থাটি দাবি করছে গত এক বছরে মোবাইল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম কমেছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত! ব্যান্ডউইথের ৯০ শতাংশ দাম কমানোর বিপরীতে ইন্টারনেটের দাম মাত্র ৩০ শতাংশ কমানোকে অনেক হাস্যকর বলে মন্তব্য করছেন। ব্যান্ডউইথের যে দাম কমানো হয়েছে তা তো ইন্টারনেটে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর জন্য। সাধারণ গ্রাহকের পর্যায়ে কি ব্যান্ডউইথের দাম ৯০ শতাংশ কমানো হয়েছে? গ্রাহকের পর্যায়ে তা কমানো হলে ইন্টারনেটের দাম অনেক কমে অাসত বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। যেখানে সবাই গলাফাঁটিয়ে বলছে, ব্যান্ডউইথের দাম 'শূন্য' করা হলেও ইন্টারনেটের দাম কমবে না। একইসঙ্গে কমাতে হবে ব্যান্ডউইথের সহযোগী ১৬টি অনুষঙ্গের দামও। তাহলেই না গ্রাহক কম দামে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।
এক মোবাইলফোন অপারেটরের একজন কর্মকর্তা বললেন, অামাদের প্রতিষ্ঠান বিশাল অংকের টাকা খরচ করে লাইসেন্স নিয়েছে, লাইসেন্স নবায়নেও দিতে হচ্ছে বড় অকের টাকা। স্পেক্ট্রামও ব্যয়বহুল, তাহলে ইন্টারনেটের দাম অামরা কমাব কীভাবে? এ বিষয়গুলোর প্রতি সরকার নজর দিলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাই উপকৃত হবে। এই কর্মকর্তার কথা মোটেও অযৌক্তিক নয়। সরকারকে এসব জায়গায়ও দৃষ্টি দিতে হবে।
অনেকেই বলে থাকেন, ভয়েস কলের মতো ইন্টারনেটের দাম বেঁধে না দেওয়ায় অপারেটররা এই সুযোগটা নিচ্ছে। দাম বেঁধে দিলে একটি নিয়মের মধ্যে চলে অাসবে সবকিছু।
এদিকে একজন প্রযুক্তি গবেষক (যিনি ব্যান্ডউইথ নিয়ে কাজ করেন) বলছেন, বিটিআরসি’র তথ্যানুযায়ী দেশের ৯৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হলো মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। মোবাইল কোম্পানিগুলো আইআইজির (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) কাছ থেকে থেকে ব্যান্ডউইথ ক্রয় করে এমবিপিএস হিসাবে, মোট বিট হিসেবে নয়। কিন্তু তারা ইন্টারনেট বিক্রয় করে মোট বিট (ডাটা আদান প্রদান) হিসাব করে। এক এমবিপিএস -এর একটি লাইনে ৩০ দিনে ২ হাজার ৫৯২ গিগাবিট ডাটা আদান-প্রদান করা সম্ভব। ধারণা করি, এর শতকরা ৬০ শতাংশ গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে মোবাইল কোম্পানিগুলো অর্থাৎ ১ হাজার ৫৫৫.২ ডাটা গিগাবিট বিক্রি করা হয়।
গ্রামীণফোনের সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী প্যাকেজ অনুযায়ী ১ এমবিপিএস -এর সংযোগ থেকে অপারেটরটির মাসিক আয় ১৯ হাজার ৪৪০ টাকা যা এয়ারটেলের ক্ষেত্রে ২৩ হাজার ৮৫ টাকা। নিশ্চয় এমবিপিএস লিংকের মূল্য কোনও প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে ৩ হাজার টাকার বেশি বিক্রি করে না। সুতরাং জনগণের সুবিধার্থে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল কোম্পানিগুলোর দর কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা প্রয়োজন

গুগল এখন 'আলফাবেট'!

টেক জায়ান্ট গুগল তার অবকাঠামো নতুনভাবে সাজাচ্ছে। কারণ তারা আরো বড় প্রতিষ্ঠান 'আলফাবেট'-এর অংশ হতে চলেছে। বরং বিএমডাব্লিউ গ্রুপের একটি অংশ হোল্ডিং কম্পানি আলফাবেট। এখন থেকে নতুন এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গুগল এবং গুগলের যাবতীয় পণ্য ব্যবস্থাপনা করবে। এ কাজে 'আলফাবেট ডট কম' কেনেনি গুগল। একে কিনতেও চায় না। এর পরিবর্তে 'এবিসি ডট এক্সওয়াইজেড (http://abc.xyz)' এখন থেকে গুগলের নতুন প্রতিষ্ঠানের হোমপেজ হবে।

গুগলের সাবেক সিইও এবং আলফাবেটের নতুন সিইও ল্যারি পেজ এক বিবৃতিতে বলেন, এর মাধ্যমে গুগলের যাবতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং গবেষণা একটি ছাদের নিচে আনা যাবে। তা ছাড়া ব্র্যান্ডিংয়েরও কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে।

ল্যারি আরো জানান, আলফাবেট বা অক্ষর মানব সভ্যতার ইতিহাসে অনন্য এক আবিষ্কার। একগুচ্ছ অক্ষের সমাবেশ যা দ্বারা ভাষার প্রয়োগ ঘটানো হয়। গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের অন্যতম মাধ্যম এই অক্ষর।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, গুগল বা আলফাবেট কেউ-ই আলফাবেটের ওয়েবসাইটের মালিক নয়। তবে বিএমডাব্লিউ এর মালিক বলা হয়। ১৯৯৭ সালে আলফাবেট গড়ে তোলা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি বিজনেস মবিলিটি সল্যুশন প্রদান করে। এরা ব্যবস্থাপনা এবং অর্থলগ্নির ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগ দেয়। সম্প্রতি এরা ইন্টারন্যাশনাল অটো ফিনান্স নেটওয়ার্ক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

Monday, 10 August 2015

গুগলের নতুন সিইও ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুন্দর পিশাই

ইন্টারনেট জায়ান্ট গুগলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুন্দর পিশাইয়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সার্গেই ব্রিনের কাছ থেকে এই ঘোষণা আসে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আকস্মিকভাবে প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করেছে গুগল। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এসেছে।
গুগল একটি নতুন মাদার কোম্পানি এনেছে। নাম অ্যালফাবেট ইন করপোরেশন । এখন থেকে ওই মাদার কোম্পানির অধীনে কাজ করবে গুগল।
অ্যালফাবেট করপোরেশনের সিইও হচ্ছেন ল্যারি পেজ। আর সার্গেই ব্রিন হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট।
পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুগলের নতুন সিইও হিসেবে কাজ করবেন সুন্দর পিশাই। ৪৩ বছর বয়সী পিশাইয়ের জন্ম ভারতের চেন্নাইয়ে।

Friday, 7 August 2015

গোবর থেকে গাড়ির জ্বালানি!

গরুর গোবর থেকে জৈব সার, কেঁচো সার, কীটনাশক ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করছেন অনেক দিন ধরেই। এবার বায়োগ্যাস সংকুচিত করে মোটরগাড়ির জ্বালানি হিসেবে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছেন আবদুস সালাম।
শুধু নিজের গাড়ির জন্যই নয়, এই জ্বালানির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাংড়া গ্রামের বাসিন্দা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবদুস সালাম (৫১)। তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাজশাহী সার্কেলের নকশাকার হিসেবে কর্মরত। ভাংড়া গ্রামে ১ একর ৬৯ শতাংশ জমির ওপর ‘স্বস্তি ডেইরি’ খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। অফিস থেকে ফিরে বাকি সময়টা এই খামারেই ব্যয় করেন।
শুরুর কথা: ২০০৮ সালে ১২টি গরু নিয়ে খামার শুরু করেন। বর্তমানে গরুর সংখ্যা ৬৫টি। আবদুস সালাম জানালেন, এই খামার থেকে একে একে জৈব সার, কেঁচো সার, কীটনাশক ও বায়োগ্যাস উৎপাদন শুরু করেন। এরপর সংকুচিত বায়োগ্যাসের (সিবিজি) ধারণাটি মাথায় আসে তাঁর। মূলত খামারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে ২০১৩ সালে সংকুচিত বায়োগ্যাসের বিষয়টি জানতে পারেন। ইন্টারনেটেই এ বিষয়ে কিছু পড়াশোনা করেছেন। অন্য দেশে যাঁরা এটা নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ করেন। তাঁদের পরামর্শেই যন্ত্রপাতি কিনে সংকুচিত বায়োগ্যাসের উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
সিবিজির উৎপাদন প্রক্রিয়া: সংকুচিত বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা, সাজানো, বসানো—সবকিছু নিজেই করেছেন বলে জানালেন সালাম। উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো আর প্রয়োজনীয় উপাদানের বর্ণনা দিলেন তিনি। খামারের গরুর প্রতিদিনের গোবরের সঙ্গে বাইরে থেকে কিনে নেওয়া আরও দুই টন গোবর যোগ করে প্রায় সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে সেই মিশ্রণ ডাইজেস্টরে (মাটির নিচে স্থাপিত কনটেইনার) দেওয়া হয়। এই ডাইজেস্টরে গ্যাস তৈরি হয়। পাইপের মাধ্যমে তা খামারের পরিশোধন (রিফাইনার) যন্ত্রে যায়। সেখান থেকে ‘কম্প্রেসর’ যন্ত্রের মাধ্যমে সংকুচিত করে গ্যাস সিলিন্ডারে নেওয়া হয়।
আবদুস সালামের হিসাবমতে, বর্তমানে তিনি ১০০ থেকে ১২৫ ঘনমিটার সংকুচিত বায়োগ্যাস উৎপাদন করতে পারেন। জানালেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এই গ্যাস প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি হিউম্যান হলারে দেওয়া সম্ভব। তবে এ জন্য থ্রি-ফেজ বিদ্যুৎ লাইন প্রয়োজন। এ ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন। থ্রি-ফেজ লাইনের জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন। আবেদন করেছেন বিস্ফোরক অধিদপ্তরেও।
আবদুস সালামের আবেদন প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক আসাদুল ইসলাম বলেন, দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এভাবে সংকুচিত বায়োগ্যাস উৎপাদনের প্রতিষ্ঠান নেই। অনুমতি দেওয়া না-দেওয়ার কোনো নীতিমালাও নেই। তাই স্থানীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে তাঁকে সদর দপ্তরে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আবেদনও করেছেন। সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই সংকুচিত বায়োগ্যাস পরীক্ষামূলকভাবে সালাম নিজের গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। সরকার এক ঘনমিটার গ্যাস ৩০ টাকা করে বিক্রি করছে। তিনি আশা করছেন, বেসরকারিভাবে এই গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৪৫ টাকা করে রাখা যাবে।
ভাংড়া গ্রামের হিউম্যান হলারচালক দবির উদ্দিন (৫০) বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে তিনি স্বস্তি ডেইরি থেকে একদিন গ্যাস নিয়ে পাবনায় গেছেন। কোনো সমস্যা হয়নি। সিএনজির মতোই মনে হয়েছে। তিনি বলেন, এরা যদি গ্যাস দিতে পারে তাহলে পাঁচ-দশ টাকা করে বেশি নিলেও মানুষের উপকার হবে। গ্যাস আনার জন্য পাবনা বা বগুড়ায় যেতে হবে না।
সরেজমিনে একদিন: সম্প্রতি ওই খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতরে একটি ঘরে গরুর জন্য যন্ত্রের সাহায্যে খড় কাটা হচ্ছে। একজন শ্রমিক দুধ মোড়কজাত করছেন। একটি ঘরের ভেতরে বস্তায় জৈব সার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এক পাশে কেঁচো সার পলিথিনের এক থেকে দুই কেজির প্যাকেটে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
সিবিজির উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দেখা গেল, গরুর ঘর থেকে একটি নালা দিয়ে গোবর মিশ্রিত পানি খানিকটা দূরে একটি গর্তে গিয়ে জমা হয়েছে। সেখান থেকে তুলে তা ডাইজেস্টরে দেওয়ার জন্য একটি কুয়ায় ঢালা হচ্ছে। একটি বিরাট চৌচালা খড়ের ঘরের ভেতরে মাটির নিচে স্থাপন করা হয়েছে ডাইজেস্টর। সেখানে গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে। ডাইজেস্টরের ওপরে গ্যাসের চাপ মাপার জন্য একটি মিটার লাগানো রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে ডাইজেস্টর থেকে ‘স্লারি’ পার্শ্বে একটি কুয়ায় গিয়ে জমা হচ্ছে। সেখানেই শ্রমিকেরা কীটনাশক আলাদা করছেন। আর ডাইজেস্টর থেকে গ্যাস পাইপের মাধ্যমে পরিশোধন (রিফাইনার) যন্ত্রে চলে আসছে। সেখান থেকে গ্যাস সংকোচন যন্ত্রের মাধ্যমে সংকুচিত করে সিলিন্ডারে ভরা হচ্ছে। সংকুচিত গ্যাস মজুতের জন্য কক্ষের বাইরে একটি বড় সিলিন্ডার বসানো হয়েছে।
সিবিজির পাশাপাশি জৈব সার ও কীটনাশক: ডাইজেস্টরে দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর গোবর-পানির যে মিশ্রণ পাওয়া যায়—সেটাই ‘স্লারি’। স্লারি থেকে পানি আলাদা করা হয়। এই পানিটাই উৎকৃষ্ট মানের কীটনাশক, জানালেন সালাম। এই কীটনাশক প্রতিদিন পাঁচ শ লিটার করে উৎপাদিত হচ্ছে। তা এক টাকা লিটার দরে কিনে নিচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।
পুঠিয়ার বেলপুকুরে সবজি চাষ করেন রাশিদুল ইসলাম। তিনি বললেন, স্লারি নিয়ে বেগুন ও মরিচের জমিতে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছেন তিনি।
স্লারি থেকে পানি আলাদা করার পরে যে উচ্ছিষ্ট থাকছে, তা পচনক্রিয়া শেষে উৎকৃষ্ট মানের জৈব সারে পরিণত হচ্ছে। প্রতিদিন খামারে এক টন জৈব সার তৈরি হচ্ছে। সাড়ে সাত টাকা কেজি হিসাবে খামার থেকে চাষিরা কিনে নিয়ে ব্যবহার করছেন শাকসবজির খেত, পেয়ারা বাগান, আম বাগান, ধান ও পাট খেতে।
পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামের রনি আহাম্মেদ ১০ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি পেয়ারায় পচন ও পোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্বস্তি ডেইরি থেকে কীটনাশক কিনে পেয়ারা গাছে স্প্রে করেছেন। একবার ব্যবহার করার পরে ১৫ দিনেও কোনো পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি। অথচ বাজারের রাসায়নিক কীটনাশক সাত দিন পরপর ব্যবহার করেও সুফল পাওয়া যায় না।
সালামের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্লারি ও জৈব সার উৎপাদন ছাড়াও মিশ্রণের কিছু উচ্ছিষ্ট কেঁচোর খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। গড়ে ২০ দিন পরে তা কেঁচো সারে পরিণত হচ্ছে। এই সার প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে কৃষকেরা কিনে নিচ্ছেন। প্রতি মাসে খামারে দুই টন কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া এই খামার থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া যাচ্ছে। স্বস্তি ডেইরির প্যাকেটজাত তরল দুধ রাজশাহী শহরে বাজারজাত হচ্ছে।
বায়োগ্যাস নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) ভাইস প্রেসিডেন্ট (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) নাজমুল হক বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সংকুচিত বায়োগ্যাস উৎপাদনের ব্যাপারে আইনে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। তিনি বলেন, যেহেতু গ্যাস উচ্চ চাপে সিলিন্ডারে ভরাতে হয়, তাই যথাযথ যন্ত্রপাতি না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এর আগে বান্দরবানে এক ব্যক্তি এ ধরনের প্রকল্প করেছিলেন। নাজমুল হকের মতে, ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এর উৎপাদন আপাতত সম্ভব নয়। কারণ এ জন্য বড় আকারের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি দরকার।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দীন বলেন, তিনি ওই খামার পরিদর্শন করেছেন। যে সার-কীটনাশক উৎপাদিত হচ্ছে, তা মানসম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব।
সালাম জানালেন, খামারে তাঁর ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। পারিশ্রমিক গড়ে ২৫০ টাকা করে। এর বাইরেও সব খরচ তিনি হিসাব করে দেখেছেন প্রকল্পটি বেশ লাভজনক। বললেন, সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি প্রকল্পটি বড় করতে পারেন। প্রতিটি উপজেলায় এ রকম খামার করা হলে দেশের ভূগর্ভস্থ গ্যাসের ওপর চাপ অনেকটা কমবে। উৎসাহী কোনো ব্যক্তি চাইলে স্বল্প পারিশ্রমিকে কারিগরি সহায়তা দিতেও প্রস্তুত তিনি।

মোবাইল থেকে দূরে রাখুন ভাইরাস



অন্যের ফোন বা কম্পিউটার থেকে পছন্দের ডেটা নিতে চাইছেন, অথচ ভাইরাসের ভয়ে আপনি দু্বার ভাবছেন। কিংবা এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে, সেখানে ঢুকলেই ফোনে ভাইরাস হানা দিচ্ছে-যা আপনার ফোনের ডেটা বা অ্যাপের কাজ আটকে দিচ্ছে। এ সব থেকে মুক্তি পেতে বাজারে কিছু ভাল অ্যান্টি-ভাইরাস রয়েছে- যার সাহায্যে আপনি নির্ভয়ে ডেটা আদানপ্রদান করতে পারেন।
সিএম সিকিওরিটি
অ্যান্ড্রয়েডের একটি জনপ্রিয় অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপ সিএম সিকিওরিটি। এতে রয়েছে ভাইরাস স্ক্যানিং, রিমুভ, অ্যাপ্লিকেশন লকের সুবিধা। অন্য কেউ পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার অ্যাপ বা গ্যালারি খোলার চেষ্টা করলে তার নিজস্বী আপনার ফোনে স্টোর হয়ে যাবে। পরে আপনি সঠিক পাসওয়ার্ড দিয়ে লক খুলে দেখতে পারবেন, কে আপনার ফোন ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল।
অ্যাভাস্ট
ডেস্কটপ অ্যান্টি-ভাইরাসের একটি জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন অ্যাভাস্ট এখন অ্যান্ড্রয়েডের জন্যও পাওয়া যাচ্ছে। এতে আছে ইউজার ইন্টারফেস। ভাইরাস স্ক্যান ও রিমুভ করতেও সক্ষম। এতেও রয়েছে পাসওয়ার্ড লকের সুবিধা।
এভিজি
এভিজি অ্যান্টি-ভাইরাসটি অনেকে খুবই পছন্দ করেন। কারণ, এটি ব্যাটারি ও ফোনের হার্ডওয়ারে খুব প্রভাব ফেলে না। ভাইরাস স্ক্যানিং ও ডিলিট করতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যগুলি বিনামূল্যে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু আরও উন্নত সুবিধা পেতে গেলে (যেমন অ্যান্টি থিফ) প্রিমিয়াম ভার্সন নিতে হবে।
এ ছাড়াও বাজারে আরও দুতিনটি ভাল অ্যান্টি ভাইরাস রয়েছে। যেমন ক্যাসপারস্কি, কুইক হিল, ৩৬০।