শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, ট্রেন্ট ব্রিজ বিপর্যয়ের ধাক্কা লেগেছে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের গায়েও। কেউ বিব্রত, কেউ ক্ষুব্ধ, আবার কারও অবস্থা ‘অধিক শোকে পাথর’ হওয়ার মতো। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা পরশুই টুইট করেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে এর চেয়ে বাজে দিনের কথা মনে করতে পারছি না।’ সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার বলেছেন, ‘প্রথম সেশনে ওই পারফরম্যান্সের পর মনে হচ্ছে, আমার ঝাঁকুনিটা এখনো যায়নি।’
আরেক সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের মনে হয়েছে, এজবাস্টন টেস্টের ভুল থেকে কিছুই শিক্ষা নেয়নি মাইকেল ক্লার্কের দল। ক্রিকইনফোকে জানানো পন্টিংয়ের প্রতিক্রিয়া, ‘এ রকম কন্ডিশনে আপনাকে উইকেটে টিকে থাকার একটা পথ বের করতে হবে। আমার মনে হয় না অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা সে রকম কোনো রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে নেমেছিল। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের চেয়ে মিচেল জনসন ভালোভাবে বল ছেড়েছে।’ অস্ট্রেলিয়ার একাদশ নির্বাচন ঠিক হয়নি বলেও মনে করেন পন্টিং। মিচেল মার্শকে বাদ দিয়ে শন মার্শকে দলে ঢোকানোর যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক। নির্বাচকদের দিকে আঙুল তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নও, ‘পিটার সিডল যদি না-ই খেলে তাকে শুধু শুধু সফরে আনা কেন?’
আগের তিন টেস্টে ব্যর্থতাই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল মাইকেল ক্লার্ককে নিয়ে। দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর ক্রিকেট লেখক পিটার লেলর লিখেই দিয়েছিলেন, ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ব্যর্থতা ক্লার্কের ক্যারিয়ারের সমাপ্তিই টেনে দেবে। ক্লার্ক অবশ্য এই টেস্ট শুরুর আগেই বলেছিলেন, আপাতত ক্রিকেট ছাড়ার কোনো ইচ্ছেই তাঁর নেই। কিন্তু ট্রেন্ট ব্রিজের প্রথম ইনিংসে তাঁকে ১০ রানে আউট হতে দেখে লেলর গতকাল লিখেছেন, ‘সত্যিটা হচ্ছে, প্রতিটি ব্যর্থতার পর তাঁর অবসর নেওয়ার দাবিটা আরও জোরালো হবে।’
এখানেই শেষ নয়, প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার নিদারুণ ব্যর্থতা সমালোচিত হচ্ছে দেশটির সংসদেও। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপকে তো প্রশ্নও করা হয়েছে, এই ব্যর্থতার পর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করা হবে কি না? বিশপ অবশ্য রসিকতা করে জবাব দিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, ওটা আমিও যে ভাবিনি, এমন নয়!’ সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, এএফপি।
0 Comment to "‘বিব্রত’ ‘বিধ্বস্ত’ ‘অপমানিত’"
Post a Comment