Friday, 7 August 2015

জলবালিকার কাজান ‘জয়’

হিটেই বিদায়। ৪১.১৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে আলজাইন তারেক হিটে সবার পেছনে থেকে শেষ করেছে সাঁতার। ৬৪ জনের মধ্যে ৬৪তম। কিন্তু তাতে কী! তার পুলে নামাটাই যে সাঁতার-বিশ্বের আলোড়ন!
আলোড়নের কারণ তার বয়স। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১.৩০ মিটার উচ্চতার আলজাইন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করল রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠানরত বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগীই ধরা হচ্ছে বাহরাইনের এই জলবালিকাকে।
হিট শেষে সংবাদমাধ্যমের আকর্ষণ আলজাইন। তবে ক্যামেরার মুহুর্মুহু ফ্লাশ কিংবা ঘিরে ধরা সংবাদকর্মীদের মাঝেও নির্বিকার বাহরাইনি বালিকা। বড়দের সঙ্গে সাঁতরানোর অভিজ্ঞতা জানাল এভাবে, ‘আমি খুশি। খুব ভালো লাগছে আমার। সত্যিই অসাধারণ একটা ব্যাপার ছিল।’
অসাধারণ ব্যাপারই। আলজাইনের আদর্শ সুইডেনের সারা সসট্রম আর অস্ট্রেলিয়ার কেট ক্যাম্পবেল। তার ইভেন্টে প্রথমজনকে সাঁতরাতে দেখল। কথাও বলল সারার সঙ্গে, ‘আমি সসট্রমের সঙ্গে দেখা করেছি, কথা বলেছি। জানতে চেয়েছি, তাঁর সঙ্গে একটা ছবি তুলতে পারি কি না। তিনি আমাকে শুভকামনা জানিয়েছেন।’
বাবা তারেক সালেম ছিলেন পেশাদার সাঁতারু। সেই সূত্রেই সাঁতারে আসা। চার বছর বয়সেই পুলে নামা। পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই দেশে এবং দেশের বাইরে আলজাইনের বয়সভিত্তিক সাঁতারে অংশ নেওয়া। তবে এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণ।
বিশ্ব সাঁতারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিনার আইনে অনুমোদিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে বয়সের সীমাবদ্ধতা নেই। তবে বাহরাইনে নিজের সেরাটা দেখিয়েই সাঁতারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়েছে আলজাইনকে, ‘বাহরাইনে আমিই দ্রুততম সাঁতারু বলে তারা (প্রতিযোগিতার জন্য) আমাকে নির্বাচন করেছেন।’ এই বয়সে তাকে কাজানের পুলে দেখে বিস্মিত বিশ্বসেরা সাঁতারুরা। এই কদিনে আলজাইনের কাজান অভিজ্ঞতা, ‘অন্য প্রায় সব সাঁতারুই আমাকে দেখে বিস্মিত। তাঁরা আমার নাম ও বয়স জানতে চাচ্ছেন। তারপর বিস্ময় ভরে বলছে “সাঁতরানোর জন্য এখানে এসেছ তুমি?”’
দেশে থাকলে প্রতিদিন সকাল সকাল উঠে আলজাইন চলে যায় স্কুলে। সাতটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত স্কুল। এক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে পড়াশোনা। এর বাইরে দিনে যেটুকু সময় পায় তা সাঁতারের জন্য কাজে লাগায় আলজাইন, ‘সপ্তাহে পাঁচ দিন সাঁতার কাটি আমি। কখনো দিনে একবার কখনো দুবার করে।’ ছোট আলজাইনের লক্ষ্যটা অনেক বড়, ‘আমি অলিম্পিকে (রিও) সাঁতরাতে চাই। তবে সেখানে সবার শেষে সাঁতার শেষ করতে চাই না।’
৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলেও সাঁতরাবে আলজাইন। যেখানে আছেন তার আরেক আদর্শ কেট ক্যাম্পবেল। এই ইভেন্টেও হয়তো ভালো কিছু হবে না। কিন্তু বিশ্বসেরা সাঁতারুদের সঙ্গে পুলে ঝাঁপ দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তো দেশে ফিরতে পারবে আলজাইন। সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার রেকর্ড, বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হওয়া—কাজানে আলজাইনের প্রাপ্তির তালিকায় এসবও থাকছে! এএফপি।

Share this

0 Comment to "জলবালিকার কাজান ‘জয়’"

Post a Comment