Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts

Thursday, 13 August 2015

রোববার থেকে হজ ফ্লাইট

আগামী রোববার থেকে হজ ফ্লাইট শুরুর সব প্রস্তুতি শেষ করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দায় উড়াল দেবে।
একই দিনে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন, রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে আরও দুটি হজ ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।
এছাড়াও রাত ১১ টা ৫৯ মিনিটে জেদ্দার নিয়মিত ফ্লাইটেও হজ যাত্রীদের পরিবহন করা হবে।
হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। হজের কার‌্যক্রম বৃহস্পতিবারই উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অন্যান্য বছরের মতো এ বছরেও চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকে হজ্জ-ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে বিমান।
দুই মাস ব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় এ বছর নিয়মিত ফ্লাইটসহ মোট ২৮৫টি ফ্লাইটে মোট ৫১ হাজার হজযাত্রীকে জেদ্দায় পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে বিমানের। এর মধ্যে ২২৪টি ডেডিকেটেড (হজ ফ্লাইট) এবং ৬১টি নিয়মিত ফ্লাইট।
১৬ অগাস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রি-হজ বা হজের আগে ফ্লাইট রয়েছে ১৪৫টি। এর মধ্যে ডেডিকেটেড ১১৫ এবং নিয়মিত ৩০টি।
হজ ফিরতি ফ্লাইট চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ১৪০টি ফ্লাইট চলবে, যার মধ্যে ডেডিকেটেড ১০৯ এবং নিয়মিত ৩১টি।
২,৫৭৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনার যাত্রীসহ মোট ৫১০০০ বাংলাদেশি হজপালনের জন্য ক্যারিয়ার হিসেবে বিমানকে ব্যবহার করবেন। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুই হাজার ৬০০ এবং ৯৯ হাজার ১৫৮ জন যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের মধ্যকার চুক্তি অনুসারে অন্যান্য বছরের মতো অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করবে বিমান।
গত বছরের মতো এ বছরেও হজযাত্রী পরিবহনে বিমান ব্যবহার করবে বহরে থাকা বোয়িং ট্রিপল সেভেন উড়োজাহাজ ।
- See more at: http://bangla.uttaranews24.com/2015/08/13/78647#sthash.YTufXycH.dpuf

Wednesday, 12 August 2015

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয় এমন কথা বা কাজ না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে। কেউ কারো ধর্মে আঘাত দিয়ে কোনো কাজ করবে না এবং বলবে না।সেইভাবেই আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।’
বুধবার রাজধানীর রমনায় তথ্য ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সমাজের ক্ষতি করে এমন তথ্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব তথ্য মানুষের উপকারে আসে, সেসব প্রচার করুন। আর যেগুলো মানুষের ক্ষতি করে, সমাজে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং বিভ্রান্তিকর সেগুলো প্রচার করবেন না। শুধু সমালোচনা করবেন না। উন্নয়নের কথাও প্রচার করুন।
বিশেষ করে শিশু মনে প্রভাব ফেলে এমন বিষয়ও প্রচারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য এর ক্ষতিকর দিকগুলো প্রচার করতে হবে।

Tuesday, 11 August 2015

‘মালয়েশিয়ায় যেতে আগেই কেউ টাকা দেবেন না’

ঢাকা: মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, তবে দেশটি বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ কর্মী নিবে এবং কবে নিবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।
এ কারণে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য আগেই কারো সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী।
সফররত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার বেলা ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তার সঙ্গে প্রতিনিধি দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সফররত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধার বিভন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় মোট শ্রমিকের চাহিদা ১.৫ মিলিয়ন। তারা কৃষিক্ষেত্র ও বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে লোক নিবে। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ লোক নিবে এবং কবে নিবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কাজেই কেউ যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে আগেভাগেই মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করে প্রতারিত না হন সে দিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।
মালয়েশিয়ায় নতুন করে লোক নেওয়ার ব্যাপারে প্রভাবশালী মহল সক্রিয় আছেন এবং তারা আবার নানা দেনদরবার করছেন এমন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘নোবডি ক্যান বাই মি।’
তিনি আরো বলেন, আমি চাই না বাংলাদেশের লোকজন ওখানে গিয়ে পড়ে থাকবে। সে কারণে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে লোক পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
সফররত প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া ফিরে যাওয়ার পরই বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল দেশটিতে সফরে যাবেন। ওই সময়েই বি টু বি সমঝোতা সই হবে বলে জানা গেছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) মুস্তফা বিন ইব্রাহিমের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল রবিবার দুপুরে ঢাকা সফরে আসেন।
ওই দিন রাতে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রার নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন। সোমবার সকালে বিএমইটির ডিজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন।
এরপর বিকেলে রাজধানীর দারুস সালামে বাংলাদেশ-কোরিয়া গারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে সফররত মালয়েশিয়ার কারিগরি প্রতিনিধি দল। বুধবার এই প্রতিনিধি দলের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

ময়মনসিংহে দুই রাজাকার গ্রেফতার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় অভিযান চালিয়ে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় অভিযুক্ত দুই রাজাকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । মঙ্গলবার দুপুরে কেশরগঞ্জ ও ভালুকজান এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন আমজাদ আলী (৮০) ও আলবদর কমান্ডার রিয়াজ উদ্দিন ফকির (৬৫)।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রিফাত খান রাজিব জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলা নং ৩৮/২০১৪ মূলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর মঙ্গলবার দুপুরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের বুধবার আদালতে পাঠানো হতে পারে।
মামলার বাদী খোরশেদ আলী জানান, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর বাবা হত্যার দুই আসামি গ্রেফতার হয়েছে, এটা যে কি আনন্দের তা বুঝাতে পারব না।
গ্রেফতারের পর আমজাদ আলী জানান, ১৯৭০ এর প্রাদেশিক নির্বাচনে তিনি পাকিস্তানের নেজামে ইসলাম পার্টি থেকে বই মার্কায় অংশগ্রহণ করে ছিলেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর আত্নরক্ষার জন্য তিনি তাবলীগ জামায়াতে চলে যান। টঙ্গীতে ইজতেমা চলাকালীন টঙ্গী মসজিদে দেশবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সে সময় যুদ্ধাপরাধের মামলায় তিনি এক বছর জেলও খেটেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার পর তিনি জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা তাবলীগের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালীন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আতঙ্কের নাম ছিল আমজাদ আলী। আমজাদ আলী রাজাকার বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তার ইশারায় নারী ধর্ষণ, লুটপাট হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল। আছিম যুদ্ধে তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পাটিরায় দুই হিন্দু নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ পর্যন্ত আমজাদ আলী ও আলবদর রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের নামে একাধিক মামলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি মামলার বাদী উপজেলার ভালুকজান গ্রামের খোরশেদ আলী। তার পিতা তালেব মণ্ডলকে আখিলা নদীর ব্রিজের ওপর দাড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে রাজাকার বাহিনীর প্রধান আমজাদ ও আলবদর বাহিনীর প্রধান রিয়াজ ফকির।

'যৌনমিলনে অনাগ্রহী' সাদা বাঘের বংশবৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তা

ভারতের কলকাতা শহরে আলিপুর চিড়িয়াখানার একটি সাদা বাঘের বংশবৃদ্ধির জন্য কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে। কারণ দুর্লভ এই বাঘটি যৌনমিলনে আগ্রহী নয়।

চিড়িয়াখানা কর্মকর্তারা ১০ বছর বয়স্ক বাঘটিকে যৌনমিলন করানোর জন্য গত ছয় মাস ধরে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। বাঘটির নাম 'বিশাল'। তার খাঁচার পাশেই এনে রাখা হয়েছে বাঘিনী 'রূপা'কে।

কর্মকর্তারা বলছেন, রূপা এর মধ্যে মধ্যে বিশালের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু 'লাজুক' বিশাল তাতে সাড়া দেয়নি।

পশু চিকিৎসক দয়ানারায়ণ ব্যানার্জি বলেন, বিশালকে যৌন ইচ্ছা বাড়ানোর ওষুধও সেবন করানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

কর্মকর্তারা বলছেন, চিড়িয়াখানায় এখন প্রজননসক্ষম পুরুষ বাঘ এই একটিই রয়েছে। তবে তার বয়েস ১০ বছর হয়ে গেছে। যা বাঘের জন্য বুড়ো বয়েস।

প্রজননের জন্য বাঘের সর্বোত্তম বয়েস হলো ৫ বা ৬ বছর। সাত-আট বছর বয়েস পর্যন্তও বাঘের যৌন সক্ষমতা থাকে।

তবে ব্যানার্জি বলেন, এখন তারা চিন্তা ভাবনা করছেন 'রানী' আরেকটি রয়েল বেঙ্গল বাঘিনীর সঙ্গে বিশালের 'পরিচয়' করিয়ে দেয়া হবে কিনা। রানীর চেহারা রূপার চাইতে সুন্দর। তবে সমস্যা হচ্ছে তার খাঁচাটি বেশ দূরে, তাই এখন তারা উচ্চতর পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।বিবিসি

একার সিদ্ধান্তে ৬০০ কোটি টাকা দিয়েছেন হাই

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু একক সিদ্ধান্তে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন। এসব ঋণের ক্ষেত্রে যাচাই কমিটির প্রস্তাব ছিল না। কিছু ক্ষেত্রে আবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি আগেই প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছিল। তারপরেও সেগুলো আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করিয়ে ঋণ দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁর মৌখিক সিদ্ধান্তেও ঋণ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আর কখনোই শোনা যায়নি।
২০১২ ও ২০১৩ সালের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পাঁচটি বোর্ডসভার নথি পর্যালোচনা করে শাখা ও যাচাই কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ঋণ অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট এসব তথ্য পাওয়া যায়। এ ধরনের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রস্তাব ছাড়াই পুনঃ তফসিল করা ঋণের পরিমাণ আরও প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুর এভাবে ঋণ দেওয়ার ওই সব নথি বেসিক ব্যাংকেই রয়েছে। এসব তথ্য পর্ষদের কার্যবিবরণীতেও উল্লেখ আছে। অথচ এসব কিছুই খুঁজে পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুকে ছাড়াই বেসিক ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় অনুসন্ধান শেষ করেছে দুদক। ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুর নির্দেশে এসব ঋণ মঞ্জুর করেছেন, দুদক এখন কেবল তাঁদেরই চিহ্নিত করছে। অথচ মূল নির্দেশদাতা পাচ্ছেন দায়মুক্তি।
দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, বেসিক ব্যাংকে যে ঘটনা ঘটেছে, তার দায় সাবেক চেয়ারম্যান কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। প্রথমত, তিনি যথাযথ ব্যাংকিং প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। দ্বিতীয়ত, যেসব বেআইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেগুলোও অপরাধ। এ ক্ষেত্রে নথিগত প্রমাণ পায়নি এমন অজুহাতে দুদক তাঁকে ছাড় দিতে পারে না। দুদক যদি তাঁকে বাদ দিয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেয়, সে ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো মহলের চাপে সেটা করছে কি না, সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বেসিক ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ব্যাংকের অধিকাংশ ঋণ মঞ্জুর, ঋণ নবায়ন এবং ঋণসংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটির কোনো সুপারিশ ছিল না। তারপরেও সেগুলো পর্ষদের সিদ্ধান্ত বা দিকনির্দেশনার জন্য সভায় উপস্থাপন করা হয়ে। আবার কোনো কোনো প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি সুস্পষ্টভাবে নেতিবাচক মতামত দিলেও পর্ষদ ঋণগুলো অনুমোদন করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার ঋণ যাচাই প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঋণ প্রস্তাব পর্ষদে উপস্থাপনের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে না পেলেও সেগুলো ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। আবার সংশ্লিষ্ট শাখা আবদুল হাই বাচ্চুর মৌখিক নির্দেশেও ঋণ দিয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে দুদকের কর্মকর্তারা সেই প্রথাগত বক্তব্যই দিয়েছেন। দুদকের কমিশনার (অনুসন্ধান) নাসির উদ্দীন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, বোর্ডের অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য-প্রমাণ পেলে কমিশন সেটা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।
প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাংকের ৩১০, ৩১১, ৩১৩, ৩১৪ ও ৩২৪ নম্বর বোর্ডসভায় ২৪ প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম করে ঋণ দেওয়া হয়। যেমন ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বোর্ডের ৩১০ নম্বর সভায় ব্যাংকের গুলশান শাখার গ্রাহক এশিয়ান শিপিং বিডি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫০ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভাতেই একই শাখার গ্রাহক ফারদিন ফিশকে ঋণ অনুমোদন করা হয় ১৫ কোটি টাকা। ওই বছরের ২৭ জুন বোর্ডের ৩২৪ নম্বর সভায় গুলশান শাখার গ্রাহক মেগা ট্রেডার্সকে ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা মেয়াদি ঋণ এবং ৮ কোটি টাকার ক্যাশ ক্রেডিট (হাইপো) অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভাতেই মেসার্স আনান সক্স, ওয়েল সোয়েটার্স, ওয়েল টেক্স লিমিটেডের স্বল্পমেয়াদি ঋণকে (ডিমান্ড লোন) মেয়াদি ঋণে পরিবর্তন করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বোর্ডের ৩১১ নম্বর সভায় কারওয়ান বাজার শাখার গ্রাহক মনিকা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের এসওডি (সিকিউরড ওভারড্রাফট) সীমা ৬৫ কোটি টাকা করার অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভাতেই গুলশান শাখার গ্রাহক এআরএসএস এন্টারপ্রাইজের এসওডি সীমা ৫০ কোটি, ঋণপত্র সীমা ১৫ কোটি এবং বিশ্বাসী ঋণ সীমা (এলটিআর লিমিট) ১০ কোটি করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
২৩ মে অনুষ্ঠিত বোর্ডের ৩১৩ নম্বর সভায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের অনুকূলে ১৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেয় পর্ষদ। সমন্বিত ঋণসুবিধা অনুমোদন দেওয়া হয় তারিফ অটো ফ্লোর মিলস (১০ কোটি), মিমকো কার্বন কোম্পানি (২৫ কোটি), বাংলাদেশ ইয়েলো পেইজেস লিমিটেডকে (১৪ কোটি ৭৫ লাখ)।
বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা উদ্ঘাটনের পর থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক প্রতিবেদনে আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরা হয়। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও ব্যাংকটিতে ‘হরিলুটের’ পেছনে আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু জড়িত বলে একাধিকবার উল্লেখ করেন। জাতীয় পার্টির নেতা হলেও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের কারণেই আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এত তথ্য থাকার পরও দুদক কেন তাঁর বিরুদ্ধে নথিগত প্রমাণ পায়নি, সে বিষয়টি নিয়ে দুদকের দায়িত্বশীল কেউই মুখ খুলতে চান না। তবে না প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বাচ্চুর বিষয়ে ‘উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের’ ওপরই নির্ভর করছে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না।
তবে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ‘অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কমিশন কোনো অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কাজ করছে না—আমি এটাই বিশ্বাস করতে চাই। আমি আশা করি, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অনুসন্ধান করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করবে দুদক। কারণ, এর সঙ্গে অসংখ্য গ্রাহকের পাশাপাশি আমাদের জাতীয় স্বার্থ জড়িত।’
দীর্ঘদিন ‘কার্যত’ বন্ধ থাকা এবং বারবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা বদলের পর ৪ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয় দুদকের অনুসন্ধান দল। সেখানে আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুর বিরুদ্ধে ‘নথিগত প্রমাণ’ না পেয়ে তাঁকে ছাড়াই ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বেসিক ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের মার্চে তা দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। ওই চার বছর তিন মাসে ব্যাংকটি ৬ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা ঋণ দেয়, যার প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকাই নিয়ম ভেঙে দেওয়া হয়েছে।