Friday, 7 August 2015

এবারের বর্ষায় অতিবৃষ্টি



বেশ কয়েক বছর পর এবার বর্ষাকালে বেশ দাপট দেখাচ্ছে বৃষ্টি। মে, জুন ও জুলাই মাসের পুরোটা সময় আকাশে ছিল ভারী মেঘ। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসজুড়ে অঝোরে নেমেছে বৃষ্টি। প্রবল বর্ষণে এই বাংলার মাঠঘাট, নদীনালা, খালবিল পানিতে থইথই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে জুলাই মাসে বাংলাদেশে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চাইতে ৬৫ ভাগ বেশি। এর আগে জুন মাসেও ছিল বৃষ্টির দাপট। ওই সময় এর পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ ভাগ বেশি।
বৃষ্টি এই দাপট আগস্ট্রে থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
২০১৪ সালের জুন ও জুলাই মাসে বৃষ্টির চিত্র ছিল ঠিক উল্টো। এ সময় দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ ভাগ বৃষ্টি কম হয়েছিল।
প্রতি বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশে স্বাভাবিক বৃষ্টি প্রত্যাশা করা হয় ৩,৩০৮ মিলিমিটার। কিন্তু এবার এই মাসে বৃষ্টি হয়েছে ৪,৭৫০ মিলিমিটার, যা ১.৪৪২ মিলিমিটার বেশি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সাতটি বিভাগের মধ্যে বৃষ্টি বেশি হয়েছে উপকূলীয় এলাকায়। উত্তরের রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি এখন পর্যন্ত প্রায় স্বাভাবিক। রংপুর বিভাগে স্বাভাবিক চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। চট্টগ্রামে সাধারণত বৃষ্টি হয় ৭২০ মিলিমিটার। সেখানে এর পরিমাণ ছিল ১,৩২২ মিলিমিটার। এটি স্বাভাবিক বৃষ্টির চাইতে ৮৪ ভাগ বেশি। ঢাকা বিভাগে ৪৬ শতাংশ, খুলনায় ১১৯ শতাংশ, বরিশালে ৮১ শতাংশ, সিলেটে ১০ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ২ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। রংপুরে বৃষ্টির আঁচড় লাগেনি। বরং খরার প্রভাব রয়েছে। যেখানে গড় বৃষ্টির চেয়ে ৩৬ ভাগ কম বৃষ্টি হয়েছে।
মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার বিষয়টিকে এবার অতি বৃষ্টির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেনসহ’ বেশ কয়েক বার নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল বলে ধারণা তাদের।
বৃষ্টি হওয়ায় এবার গরম কম পড়েছিল। অন্যদিকে হঠাৎ বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধিতে শঙ্কা আছে বলে মনে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, ‘একই সময় দেশে প্রকৃতি ছিল দুই ধরনের। একদিকে ২৪ ঘণ্টায় টেকনাফে বৃষ্টি হয়েছিল ৪৪০ মিলিমিটার। আবার উত্তরের রংপুর ও দিনাজপুরে ছিল খরার প্রভাব। এটিই দুশ্চিন্তার বিষয়।’
প্রকৃতিতে ভারসাম্য আনার জন্য উপকূলীয় এলাকায় গাছ লাগানোর বিষয়ে জোর দেন তিনি। অন্যদিকে চাষাবাদের জন্য ভূগর্ভের পানির ব্যবহার কমিয়ে পরিত্যক্ত এলাকায় মাছ চাষের পরামর্শও দেন এই আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ।
কয়েক বছরের অতি আর কম বৃষ্টিকে জলবায়ু পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা প্রমাণ করে বলে মনে করেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত। বাংলাদেশে বৃষ্টি হলেও দক্ষিণ ভারতসহ এই অঞ্চলে এর পরিমাণ কম ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন দশকের গড় বৃষ্টি নিয়েই স্বাভাবিক বৃদ্ধির মাত্রা নির্ধারিত হয়। বৃষ্টির সঙ্গে যেহেতু কৃষি জড়িত, তাই বৃষ্টির আঞ্চলিকতার বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে।’
আগস্ট মাসেও বৃষ্টি স্বাভাবিকের মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় স্বাভাবিক বন্যা হতে পারে।
সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও তিনটি নিম্নচাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

Share this

0 Comment to "এবারের বর্ষায় অতিবৃষ্টি"

Post a Comment