অ্যাশেজ শেষ হতে এখনো অনেক বাকি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা হয়তো চটজলদি দেশে ফিরতে পারলেই বাঁচেন। দেরি করলে তো দেশে ঢুকতে পারা নিয়েই দুশ্চিন্তা থেকে যাবে। গতকাল অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রী জুলি বিশপকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, খেলোয়াড়দের নাগরিকত্ব কেড়ে নেবেন কি না। মন্ত্রী অবশ্য মজা করেই ভেবে দেখার কথা বলেছেন।
ট্রেন্টব্রিজ টেস্টের সকালের সেশনের পর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া দুই দেশের মিডিয়াই ঝাঁপিয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া দলের ওপর। সাবেক ক্রিকেট তারকাদের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা চেয়ে বিস্ময়ই ছিল বেশি।
শেন ওয়ার্ন তো খেলা নিয়ে কথাই বলতে চাইলেন না। টুইটারে লিখেছেন, ‘নটিংহামের প্রথম দিনটি ভালো যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে আজ পান করেই দুঃখ ভুলতে হবে।’
রিকি পন্টিং অবশ্য ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই বিপর্যয়ের। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হলো তারা বিভ্রান্ত ছিল। কীভাবে যে খেলবে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছিল না। তাদের আরও রক্ষণাত্মক হওয়া উচিত ছিল। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের চেয়ে মিশেল জনসনের ব্যাটিং ছিল অনেক ভালো।’
সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন অস্ট্রেলিয়ানদের মানসিকতায় সমস্যা দেখছেন। টেলিগ্রাফের কলামে ভন লেখেন, ‘তাঁদের মধ্যে আমি লড়াইয়ের ইচ্ছেই দেখলাম না। টস হারার পরই তাঁদের অনেকেই হার মেনে নিয়েছেন। তাঁরা সমস্যার সমাধান করতে না চেয়ে উল্টো বড় বড় শট খেলতে চেয়েছেন।’
ইয়ান হিলির তো দলের একতা নিয়েই প্রশ্ন জেগেছে। চ্যানেল নাইনে তিনি বলেন, ‘তারা কি দলের মতো খেলছে? তারা কি এই ভুল থেকে শিখছে কিছু? তারা কি পরে এসব নিয়ে কথা বলে? তারা কি সমস্যা সামাল দেওয়ার সাহস রাখে? '
অ্যাডাম গিলক্রিস্ট অবশ্য এত কিছুর ধার ধারেননি। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং খেলার পর্যায়েই ছিল না। তিনি বলেন, ‘রাতের খাওয়া শেষ করে থিয়েটার দেখে মাত্র ফিরলাম। এবার খেলা দেখার পালা।’
ডেমিয়েন মার্টিনের কথায়ও একই সুর। তিনি বলেন, ‘বাদবাকিদের কথা জানি না, তবে এসবিএসের “কিচেন নোটবুকের” আজকের এপিসোডটি খুব উপভোগ করলাম।’
নাথান ব্র্যাকান অবশ্য আশা ছাড়েননি। মজাই করলেন একটু, ‘১১ নম্বর ব্যাটসম্যান কি একা খেলে যেতে পারবে না?! ’
ডেইলি মেইলের সাইমন বার্নস অবশ্য সবার সব মতামতকে একবাক্যেই প্রকাশ করেছেন, ‘মাঝে মধ্যে খেলা থেকে স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায়। আজ ছিল এমন একদিন, খেলার অস্বাভাবিকতায় বাস্তবতা থেমে গিয়েছিল।’

0 Comment to "অস্বাভাবিক চমকে ভরা একটি দিন"
Post a Comment